গত দুদিনে আবোরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। রোয়াংছড়ি উপজেলার সীমান্তে মংবাইতংপাড়া এলাকায় সাঙ্গু নদ এলাকায় গোলাগুলিতে আরো চার ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তাদের মরদেহ পড়ে আছে নদের পাড়ে। আজ রোববার সকালে স্থানীয়রা এসব মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। মরদেহগুলো উদ্ধার করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার।

নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তাই বলা যাচ্ছে না মরদেহগুলো কাদের বা কোন সংগঠনের। বেলা সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি অ্যাকশনের একটা রিঅ্যাকশন আছে। পাহাড়ে সক্রিয় একাধিক সংগঠন রয়েছে। একটা সংগঠন যখন আরেকটা সংগঠনের ওপর চড়াও হয়, স্বাভাবিকভাবে আক্রান্ত সংগঠন একটা রিঅ্যাকশন দেখাবে। আমরা এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এটি একটি রিঅ্যাকশন হতে পারে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে ঘটনাস্থলে গেছে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে একই উপজেলা জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মূল দলের উনুমং মারমা নামের নেতৃত্বস্থানীয় এক সদস্যের উপর অতর্কিত গুলি চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে। উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম নোয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে  পুলিশ সুপার বলেন, উনুমং মারমাকে বা তার মরদেহ আমরা এখনো পাইনি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জীবিত অথবা মৃত তাকে খুঁজে পেলে ঘটনা পরিস্কার হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা কমরেড পোশাক পরিহিত ছিল। আমরা যতটুকু জানি, মারমা লিবারেশন পার্টি (এমএলপি) এ ধরনের পোশাক পরে। যেহেতু চেহারা কেউ চেনেনি, তাই এমএলপির সদস্য হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।