কোটা
সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ে
সারাদেশ। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন
ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে
নিহত হন সারাদেশের সাত
শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিলে প্রথমে তা
প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থী
ও চাকরিপ্রত্যাশীরা্। যদিও শেষ পর্যন্ত
পুলিশী অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে বিকেল
৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবন থেকে শিক্ষার্থীদের একটি
মিছিল নিয়ে টিএসসির দিকে অগ্রসর হলে
পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোড়ে।
এ সময় শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল
ছুড়তে থাকেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের
এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে
দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। ওই শিক্ষার্থীর নাম
আব্দুল হান্নান মাসুদ। তিনি স্যার এ
এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী বলে
জানা গেছে।
এর আগে কোটা সংস্কারের
দাবিতে চলমান আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ব
ঘোষিত গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে
ভিসি চত্বরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর
অংশগ্রহণে এ গায়েবানা জানাজা
অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কফিন ধরে শপথ
করে বলেন, ‘এ আন্দোলন আমরা
বৃথা যেতে দেব না।
দাবি আদায় না হওয়া
পর্যন্ত আমরা এ আন্দোলন
থেকে সরে যাব না।’
এর আগে বেলা ৩টা
৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিসি চত্বরে লাশের কফিন নিয়ে আসা
হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা
২টার দিকে পূর্ব ঘোষিত
গায়েবানা জানাজায় অংশ নিতে টিএসসি
চত্বরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন।
এক পর্যায়ে তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে
দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান
দিতে থাকে। এ সময় চারদিকে
প্রচুর সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও দেখা গেছে। তবে
শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিতে থাকেন।
এরপর
বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের
দিকে নিউমার্কেট এলাকা থেকে একটি কফিনসহ
মিছিল আসে। সে সময়
শিক্ষার্থীরা আরো উত্তেজিত হয়ে
পড়ে এবং স্লোগান দিতে
থাকেন।
প্রসঙ্গত,
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন
গতকাল মঙ্গলবার বেশ সহিংস রূপ
নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ছয়জন মারা গেছেন।
আহত হয়েছেন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এর আগে সারা
দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা
করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের সব কলেজ বন্ধ
ঘোষণা করেছে।










