চলতি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনে কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে মণপ্রতি ধানের মূল্য ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতি।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করে এ দাবি জানায় ও একযোগে সাত দফা সুপারিশ পেশ করে।

বৈঠকে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেওয়ান আব্দুর রশীদ নিলু। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম, যুগ্ম-সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাফর মুহাম্মদ শাফি ও শাহাবুল ইসলাম।

প্রতিনিধিদল জানায়, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মোট উৎপাদনের তুলনায় খুবই সীমিত। কাঠামোগত অসুবিধা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে কৃষকের উৎপাদিত ধান লাভজনক দামে বিক্রি হচ্ছে না। ফলে সরকারকে বেশি পরিমাণে ধান সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১০টি জেলায় ১৫-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, কৃষকরা উৎপাদনের প্রকৃত খরচের তুলনায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, কৃষি ঋণের বোঝা, সরকারি গুদামে ধান দিতে কৃষকদের অনীহা, ধান সংগ্রহে কর্মকর্তাদের অনাগ্রহ, কৃষক পরিচয়পত্রের অভাব ও গোলাঘরে শস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা হ্রাস—এসব কারণে ধানের লাভজনক মূল্য কৃষকদের হাতছাড়া হচ্ছে।

বৈঠকে উপদেষ্টার কাছে যে সাত দফা সুপারিশ পেশ করা হয়, তার মধ্যে খাদ্য অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাপ্তাহিক গণশুনানির প্রস্তাবকে উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষক মজুর সংহতির নেতারা সরেজমিন তদন্তের ফল ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তারা জানান, এ দাবিগুলো নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষক সংগঠন ও অংশীজনদের নিয়ে আরো বৃহত্তর উদ্যোগ নেয়া হবে।