ঈদুল
ফিতর শেষে রাজধানী ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন অনেকে। তবে
এখনো যারা ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামে যাননি, তাদের অনেকে আজ শহর ছাড়ছেন। শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর
গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এ চিত্র
দেখা গেছে।
ঈদের
ছুটি শেষ করে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা ফিরেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হাবিবুল বাশার। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ছুটি এখনো একদিন বাকি আছে।
তবে পহেলা বৈশাখ ঢাকায় উদযাপন করার ইচ্ছার কারণে আগেই ফিরলাম। এছাড়া আগামীকাল থেকে
ঢাকা ফেরার চাপ বাড়বে। তখন যানজট ও ভোগান্তি হবে। তাই সবকিছু চিন্তা করে একদিন আগে
চলে এলাম।’
ঈদযাত্রায়
পরিবহন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। একইভাবে ফিরতি যাত্রায়ও
বাড়তি ভাড়া আদায়ের কথা বলেছেন কেউ কেউ। রোকসানা পারভিন নামের এক যাত্রী বিনিময় পরিবহনের
বাসে করে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্য সময় ৩৫০ টাকায়
টাঙ্গাইল যাতায়াত করি, এবার ৫০০ টাকা করে রাখা হয়েছে। তবে রাস্তায় অন্য কোনো ভোগান্তি
হয়নি।’
মেরিনা
আফরোজ সিনথিয়া একজন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত তার কলেজ বন্ধ।
কিন্তু কোচিংয়ের কথা বিবেচনা করে সে আগেই রাজশাহীতে
ঈদ করে ঢাকায় ফিরেছে। সিনথিয়া বলে, ‘পথে কোনো দুর্ভোগ হয়নি এবার। সকাল ৮টায় বগুড়া থেকে রওনা
দিয়ে বেলা আড়াইটায় ঢাকায় পৌঁছেছি।’
যদিও
ফিরতি যাত্রা এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা। হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার এমদাদুল হক
বলেন, ‘৩৫ জন যাত্রী নিয়ে রাজশাহী থেকে এসেছি।
সোমবার থেকে পুরোপুরি ফিরতি ঈদযাত্রা শুরু হবে।’
এদিকে
ভোর রাত থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্য
থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। এসবের মধ্যে পঞ্চগড় থেকে আসা একতা এক্সপ্রেস (৭০৬) ট্রেনটি
সকাল ৮টার দিকে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছে। এ ট্রেনের
যাত্রী মনি মিয়া বলেন, ‘ঈদের পাঁচদিন আগেই বাড়ি
গিয়েছিলাম। যদিও কাল বন্ধ তার পরও কিছু কাজ
থাকাতে আজই ঢাকায় ফিরেছি। স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়ে আরো কয়েকদিন পরে ফিরবে।’
এদিকে
ঈদ শেষ হলেও তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। সরেজমিনে রাজধানীর গুলিস্তান, মহাখালী ও
সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, পরিবারের
সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতে ঈদের তৃতীয় দিনেও বাস টার্মিনালে ভিড় জমাচ্ছে যাত্রীরা। ময়মনসিংহ
ও কিশোরগঞ্জের যাত্রীদেরই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের যাত্রীও
রয়েছে।
যাত্রী
ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের সময় যারা ছুটি পাননি বা কোনো কারণে ঢাকায় আটকে
গেছেন তারাই এখন বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাচ্ছেন।
এনা
ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার নুরু বলেন, ‘ঈদের তৃতীয় দিনে এসেও বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ
রয়েছে। সকাল থেকে আমাদের অনেকগুলো বাস যাত্রী নিয়ে টার্মিনাল ছেড়ে গেছে।’










