শিক্ষাক্ষেত্রে একই বিষয়ে বারবার নিবন্ধন বা ভর্তি বন্ধে নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এক মুরগি যেমন তিনবার জবাই করা যায় না, তেমনি শিক্ষায় একবারই নিবন্ধন করতে হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে উঠতে নতুন করে ভর্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। একই শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বারবার নিবন্ধনের প্রবণতা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
পরীক্ষায় নকলের ধরন বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন নকল ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নকল করলে সেটি শিক্ষকদের দুর্বলতা হিসেবে দেখেন তিনি। করোনার সময়ের মতো নকলের ধরনও বদলেছে বলে জানান। তিনি বলেন, সমস্যাটি মূলত মানসিকতার এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হলে আগে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, শুধু মন্ত্রী পরিবর্তন করলেই শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়। যারা মানুষ গড়ার কাজ করেন, সেই শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়ন জরুরি।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের উন্নয়নের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা। শিক্ষকদের জবাবদিহিতার মধ্যে দাঁড় করানো নয়, বরং তাদের সঙ্গে নিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানান। তিনি বিরোধী দলসহ সব সংসদ সদস্যকে প্রতিদিন শিক্ষা বিষয়ে কথা বলা এবং সংসদে এ বিষয়ে নোটিশ দেয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে নকলের প্রবণতাকে অনেকেই প্রশ্রয় দিয়েছেন। ২০০১ সালের পর সরকার কঠোরভাবে নকল দমনে সক্ষম হয়েছিল। তবে করোনার পর নকলের ধরন বদলে ডিজিটাল জালিয়াতি শুরু হয়েছে। এটি ঠেকাতে শিক্ষক ও প্রশাসনকে আরো সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি সারাদেশে ঘুরে মতবিনিময় করছেন। এতে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হলেও অনেকেই উৎসাহ দিচ্ছেন। সংসদ সদস্যরা আন্তরিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ২০ বছর আগে যশোরে এসে দুই ট্রাক গাইড উদ্ধার করেছিলেন, এখন হয়তো আরো বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা হলেও তিনি তা ইতিবাচকভাবে দেখেন এবং জবাবদিহির মধ্যে থাকতে চান বলে জানান।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোসাম্মাৎ আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম।
এছাড়া বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ নুরুল হক। সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সহস্রাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।










