কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২২৮ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, এদের মধ্যে ছাত্রীও রয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মী মো. মিজান ও মো. হাবিবুর রহমান জানান, দুপুর ২টার পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ২২৮ জনকে টিকিট দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করেছেন চিকিৎসকরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াকুব (২১), কাজী তাসলিম ফেরদৌসী (২৪), অমি (২৬), আমিনুর (২২), শুভ (২০), গিয়াস উদ্দিন (২০), নাসির (২৩) ও অপি (২২)। এদিকে ঢাবিতে লাগা সংঘর্ষ ঢামেক হাসপাতালেও ছড়িয়েছে। হাসপাতাল চত্ত্বর ও ভেতরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুরো হাসপাতালজুড়ে রোগীদের মধ্যে ভীতি-আতঙ্ক দেখা যায়।

হাসপাতালের তৃতীয় তলায় নাক, কান ও গলা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন লেবু মিয়া নামের রোগী। তার স্বজন মনির হোসেন লেবু মিয়াকে তিনতলা থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক্স-রে করতে নিয়ে আসেন। তখনই জরুরি বিভাগ চত্ত্বরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হলে তারা এর মধ্যে আটকে পড়েন। ভয় পেয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে রোগীকে নিয়ে আবার ওয়ার্ডে চলে যান মনির।

তিনি বলেন, হাসপাতাল হচ্ছে রোগীদের চিকিৎসার কেন্দ্র। এখানে কেন মারামারির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের নিরাপত্তায় জরুরি বিভাগে বাড়তি আনসার সদস্য ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতাল চত্ত্বর ও আশপাশে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুমানিক ২২৮ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ভর্তি রোগীদের মধ্যে কেউ গুরুতর নয়, তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো এক-দুজন করে হাসপাতালে আসছে বলে তিনি জানান ।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও তারা নিরাপদ বোধ করছেন না। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে হামলা হয়েছে। তারা আহতদের ওপর পুনরায় হামলার শঙ্কা করছেন। 

তারা বলেন, ছাত্রলীগের অনেকে আহত হওয়ার অভিনয় করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে শঙ্কিত।

হামলায় হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও আহত হয়েছেন। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া জানান, হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছাত্রদের দুই গ্রুপের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ হচ্ছে। এজন্য হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।