দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো পাঁচ শিশু। নতুন করে ৬৩ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৫৫৬ এবং নিশ্চিত হামে ৯২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৪৮ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭৩৩ শিশুর। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শতাধিক শিশু এবং ৬৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৭২ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পরও সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্প্রতি টিকা নেয়া শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কতটা তৈরি হয়েছে, আগে টিকা নেয়াদের সুরক্ষা কতটা কার্যকর রয়েছে এবং বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া হামের ভাইরাসের ধরন কী—এসব বিষয়ে গবেষণা জরুরি। তবে দেশে এ ধরনের পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘একটি প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি নতুন কোনো জিনোটাইপ নয়। ফলে ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসা ও টিকাদানের পাশাপাশি দ্রুত গবেষণা চালানো না হলে হামের অস্বাভাবিক উচ্চ মৃত্যুহারের প্রকৃত কারণ অজানাই থেকে যাবে।’
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকায় তিন, রাজশাহী বিভাগে এক এবং ময়মনসিংহ বিভাগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৮৪ হাজার ৮৯৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ হাজার ৬০৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ৬৫ হাজার ৮৫২ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘হামের প্রকোপ কবে কমবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। কারণ টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তাদের মধ্যে কেউ এক ডোজও পায়নি, আবার কেউ প্রথম ডোজ নেয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি।’
তার মতে, টিকাদান কর্মসূচির পরিসংখ্যানের নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই ও তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃতপক্ষে কতজন শিশু টিকা পেয়েছে এবং কতজন বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।










