চীনে ৩০টি দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গণমাধ্যম সহযোগিতাবিষয়ক সেমিনার ও বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি মিডিয়া সেলের জাতীয় সমন্বয়কারী ও টিম লিডার (ডিজিটাল) আপেল মাহমুদ অংশ নেন।

সেমিনারে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের ভূমিকা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনশীল প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উপমন্ত্রী সুন হাই ইয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে আপেল মাহমুদ বলেন, বৈঠকের শুরুতেই সুন হাই ইয়ান সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের কাজ ও ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন। বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আয়োজকদের এ ধরনের বিস্তারিত ধারণা তাদের প্রতি মনোযোগ এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা নিয়মিত অনুসরণের বিষয়টি তুলে ধরে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নতুন প্রযুক্তির কারণে গণমাধ্যম খাতে পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের দেশের গণমাধ্যমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সেমিনারের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের চীনের বিভিন্ন শহর, প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। বেইজিংয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে চীনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণমাধ্যমের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন তারা। পরে ইয়িচুয়াং এলাকায় শিল্প, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আধুনিক নগর উন্নয়নের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানেন।

প্রতিনিধি দল ইয়ানআন শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানও পরিদর্শন করে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা বিপ্লবের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত এসব স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে সে সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেন অংশগ্রহণকারীরা।

এছাড়া ইয়াংজিয়াহে গ্রাম পরিদর্শন করেন তারা। গ্রামটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গ্রামীণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারেন তারা।

শানসি প্রদেশের শি’আন শহরে টেরাকোটা আর্মি জাদুঘর ও ট্যাং প্যারাডাইস পরিদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা। একই শহরে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি পরিদর্শনের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবননির্ভর শিল্পোন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।

পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধি দল ঝেজিয়াং প্রদেশ ও হাংঝৌ শহর পরিদর্শন করে। সেখানে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানানো হয়। স্থানীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও চীনা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।

এরপর ইউইউ শহর পরিদর্শন করে প্রতিনিধি দল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পরিচিত এ শহরের বাজারব্যবস্থা, উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে সংযোগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন অংশগ্রহণকারীরা।

সফরের অংশ হিসেবে লিয়াংঝু প্রাচীন শহর পরিদর্শন করেন তারা। সেখানে পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো সভ্যতার বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি প্রাচীন চীনের পানি ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নগর পরিকল্পনা সম্পর্কেও ধারণা নেন। লিজু গ্রাম পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও জানতে পারেন তারা।

আপেল মাহমুদ বলেন, এ কর্মসূচি অংশগ্রহণকারীদের গণমাধ্যম ও বইয়ের মাধ্যমে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা জানার পাশাপাশি সরাসরি মাঠপর্যায়ে তা দেখার সুযোগ দিয়েছে। ঐতিহাসিক স্থান, আধুনিক শহর, শিল্পকারখানা, বাজার, গ্রাম ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, সফরের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় চীনের ইতিহাস, সভ্যতা, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শিল্প, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির একটি বহুমাত্রিক চিত্র পাওয়া গেছে। সরাসরি অভিজ্ঞতা গত কয়েক দশকে চীনের পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা লাভের সুযোগ তৈরি করেছে।

সেমিনারে অংশ নেয়া ৩০টি দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৈরি হওয়া যোগাযোগ ও সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।