ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে, সেটি আমরা বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছি। আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এটি জানিয়েছি যে আমাদের দুই দেশের পারস্পরিক যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচার মোটেই কাম্য নয়। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (জনকূটনীতি) তৌফিক হাসান।

ব্রিফিংয়ে ভারতীয় ভিসা সেন্টারের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তৌফিক হাসান বলেন, ভিসা সেন্টার খোলা আছে কিন্তু ভিসা প্রদানের সংখ্যাটা সীমিত। তারা মূলত মেডিকেল এবং স্টুডেন্ট ভিসাকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বার বার তারা লোকবল সংকটের কথা বলে আসছে। আমরা আশাবাদী তারা এ সমস্যার সমাধানে ভবিষ্যতে যথার্থ পদক্ষেপ নেবেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চুক্তি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তৌফিক হাসান বলেন, প্রকৃতপক্ষে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে এরই মধ্যে যেসব এগ্রিমেন্ট বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। সে কারণে সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া দরকার। যা একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। গত ১০০ দিনে হয়তো এ ব্যাপারে অগ্রগতি সীমিত। কিন্তু আমরা আশা করছি আগামী দিনগুলোতে হয়তো এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার অবকাশ রয়েছে।

ট্রানজিট ফি বাবদ ভারত থেকে বাংলাদেশ কী পরিমাণ অর্থ পেয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ট্রানজিটের বিষয়টিতে একাধিক মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত, যেমন বাণিজ্য, নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, কাজেই তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। আমাদের কাছে এ সম্পর্কিত কোনো রেডি রেফারেন্স এ মুহূর্তে নেই।

ঢাকা ও করাচির এয়ারলিংক প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সম্প্রতি আমরা একটি অনুরোধ পেয়েছি। যেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা আমাদের সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে হয়তো পরবর্তীতে আরো আপডেট জানা যাবে।

ভারতের সঙ্গে এফওসি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, গতকাল বুধবার এ প্রসঙ্গে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে। এটি আসলে দুই দেশের যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এফওসি (ফরেন অফিস কনসালটেশন)। এটি গত বছর নভেম্বরে দিল্লীতে হয়েছিল যে কারণে এ বছর এটা ঢাকায় হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে হবে এটুকু জানা গেছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সেটা হয়তো আমরা পরবর্তীতে জানতে পারব। আমরা মনে করছি যে এ এফওসি হওয়ার মাধ্যমে আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক গতিশীলতা পাবে।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক বিষয়। কাজেই সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন আমাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হবে তখনই কাজ করব। এফওসি যেটা সামনে হতে যাচ্ছে সেখানেও কিন্তু হয়তো এ বিষয়ে আলোচনা করার অবকাশ থাকবে। তখন হয়তো জিনিসটা আরো ক্লিয়ার হবে যে আমরা এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছি বা কী চাই।

শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানে— এ প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, আমরা আসলে পত্রিকা মারফত যেটা জেনেছি সেটুকুই জানি। কারন অফিশিয়ালি তো আর আমাদেরকে কেউ এটা ইনফর্ম করেনি। আর আমরাও জানতে চাইনি যেহেতু আমাদের কাছে সে নির্দেশনা আসেনি।