ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় মাত্র ২১ ঘণ্টার ব্যবধানে সারুটিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় জসিম বিশ্বাস (৩৫) নামে আরো এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বিকালে সারুটিয়া ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিলন (৩২) নামে আরো এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত জসিম ভাটবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। আর আহত মিলন একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তারা দুজনই নৌকা প্রতীকের সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নির্বাচনী সহিংসতায় একই ইউনিয়নের হারান বিশ্বাস (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গতকাল বিকালে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ওই এলাকা ত্যাগ করার পর পরই জসিম বিশ্বাসকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী (স্বতন্ত্র) জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হারান বিশ্বাস নামে একজন নিহত হন। তিনি নৌকার সমর্থক ছিলেন। এ খুনের ২১ ঘণ্টা পার না হতেই প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হলেন নৌকার আরেক সমর্থক জসিম বিশ্বাস।
নিহত জসিমের ভাই মুক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তার ভাই জসিম ও মিলন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকরা তার ভাইদের ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জসিম বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। মিলনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জসিম ও আহত মিলন তার দলের সমর্থক।
এ বিষয়ে কথা বলতে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শৈলকুপা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাটবাড়িয়া গ্রামে ছুরিকাঘাতে জসিম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হামলাকারীদের একজনকে পুলিশ আটক করেছে।










