মৃতদেহগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পরিবারের সদস্যদের জরুরি ভিত্তিতে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ১০ আগস্ট বেলা ২টার দিকে রিয়াদ মহানগরীর আলশিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় অবস্থিত একটি সোফা কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কারখানায় কর্মরত ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় নয়জন নিহতের পরিচয় জানা গেলেও বাকি সাতজনের মরদেহ চেনা সম্ভব না হওয়ায় সৌদি আরবের স্থানীয় থানা ও ফরেনসিক বিভাগ স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সরবরাহের তাগিদ দেয়।

এ পরিপ্রক্ষিতে ১৬ আগস্ট রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। ১৭ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগের নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দ্রুততম সময়ে পরিবারগুলোর কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়।

পরিচয় নিশ্চিতের অপেক্ষায় থাকা এ সাত কর্মীর মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁ ও দুজনের বাড়ি নাটোর জেলায়। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের মো. নাজমুল হুদার ছেলে মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মো. আক্কাছ প্রামাণিকের ছেলে মো. মিনহাজ প্রামাণিক এবং ভাগনাগরকান্দী এলাকার মাধবপুর ও সাধনগর গ্রামের যথাক্রমে মজনু সরদারের ছেলে মো. মাজিদুল সরদার সজিব ও আজাহার আলীর ছেলে মো. সাগর আলী। এছাড়া নওগাঁ সদরের পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে মো. শাহিন এ তালিকায় রয়েছেন।

তালিকায় থাকা নাটোর জেলার অন্য দুই প্রবাসী কর্মী হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের জাকের আলীর ছেলে মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের মো. রাব্বানির ছেলে মো. সাব্বির হোসেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুততম সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাতে আইনি বাধা কাটিয়ে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।