আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে তামাকজাত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও কর কাঠামো নিয়ে সাংবাদিক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের অবহিত করতে আজ ঢাকায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) কার্যালয়ে একটি ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশে তামাক কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাবনা এবং এর যৌক্তিকতা ও পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। প্রস্তাবনাটি যৌথভাবে প্রণয়ন করেছে ইকোনমিক্স ফর হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডস (সিটিএফজে), ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্স (আইএইচই)। তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কর্মশালায় আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব আহরণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মুখোমুখি; এ প্রেক্ষাপটে তামাক কর নীতি শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেশনে মূল উপস্থাপনা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন এন শিমুল। তিনি প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম এখনো তুলনামূলকভাবে কম। ফলে তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য হয়ে পড়েছে এবং এর ব্যবহারও বেশি।

সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম মূল্যের সিগারেট দ্বারা দখল হয়ে আছে, যা সহজলভ্য হওয়ার কারণে ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তামাকজনিত রোগের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তামাক কর বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর কাঠামোতে সংস্কারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং সিগারেটের সব মূল্যস্তরে সমানভাবে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

ড. শিমুল তামাক কর নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা সম্পর্কেও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, তামাক কর বাড়ালে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে—এমন দাবির পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ নেই। বরং প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন করা সম্ভব, যা জনস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া কর বৃদ্ধি করা হলে প্রায় চার লাখ কিশোর-কিশোরী তামাকের আসক্তি থেকে শুরুতেই সুরক্ষিত থাকতে পারে।