অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিজেদের কমিশন কেটে নেয়ার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচারকারী চক্রের আরো দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার একটি দল গতকাল রোববার নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন— মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) (ইউএসও, নগদ) ও সুমন রায় (২৮)। তারা দুজনই নড়াইলের বাসিন্দা।

আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, মো. জসিম উদ্দীনকে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নড়াইল সদরের রূপগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মুচিপোল, সোনাপট্টি রোডে মো. ওয়াহিদুজ্জামানের বাসার তৃতীয় তলায় অবস্থিত নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ৯টায় তুলারামপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে সুমন রায়কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি একটি বিদেশী অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিপিসি নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চলাকালে দেখতে পায়, দেশের ভেতর এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইট সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছে। বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন (ডিএমপি) থানায় মামলা করে।

এরপর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ এবং সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করত। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করত বলে তথ্য পাওয়া যায়। মামলার তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতার মো. জসিম উদ্দীন ও সুমন রায় নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সাইটে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া তারা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে চক্রের সদস্যদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব এজেন্ট সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো। তদন্তে তাদের জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনার সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সিআইডি জানায়, এ মামলায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় এর আগে গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজন এবং গত ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।