যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে চেক জালিয়াতির ঘটনায় অবশেষে এক মাস সাতদিন পর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। গতকাল বিকালে এ ঘটনায় অভিযুক্ত বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। শিক্ষা বোর্ড সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, তারা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি পাঠাবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের ৭ কোটি টাকা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এর সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটী জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক মৃত সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলম। তবে মিডিয়ায় মুখ খুলছেন না তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
গত ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রথম জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর একে একে বেরিয়ে আসে বোর্ড থেকে ৩৬টি চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে মামলা করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্বপদে থেকে তারা মামলা ও তদন্ত প্রভাবিত করেছেন বলে বোর্ডের অনেকে দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, অডিট ও হিসাব শাখাও পুরো বন্ধ করে দিয়েছেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ও তদন্ত কমিটির প্রধান কেএম রব্বানি জানান, আমরা জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। গতকাল ৫৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কাছে। ৩৬টি চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা।
এ জালিয়াতির সঙ্গে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত ছিলেন। তাদের সহযোগিতায় টাকা বের করে নেয়া হয়েছে। তবে এর বাইরে তিনি কথা বলতে চাননি। তবে কমিটির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কর্মচারী আবদুস সালাম ও ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটী জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম এ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছেন।










