নানা কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাঙ্গাটুঙ্গি নারী ফুটবল একাডেমির সদস্যদের। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে নানা ধরনের কটাক্ষ। তবে সব কটাক্ষকে উপেক্ষা করে এগিয়ে গেছে মেয়েরা, খেলছে জাতীয় দলে। কেউবা হয়েছেন দেশসেরা ফুটবলার।
এ অঞ্চলে নারী ফুটবলের যাত্রা ২০১৪ সালে। ওই বছর রাঙ্গাটুঙ্গির মাঠে নামে ছয় ফুটবলপ্রেমী মেয়ে। গড়ে ওঠে রাঙ্গাটুঙ্গি নারী ইউনাইটেড ফুটবল একাডেমি। শুরুতে কটাক্ষের শিকার হলেও থমকে যায়নি তাদের যাত্রা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে খেলোয়াড়ের সংখ্যা। ঝুলিতে যুক্ত হতে থাকে সফলতা। শুরুটা হয়েছিল জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। তারপর বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে সুনাম বয়ে নিয়ে আসে মেয়েরা। গত বছর মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ী হয় বাংলাদেশ। নারী সাফ বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ছিলেন সোহাগী কিসকু আর স্বপ্না রানী। তারাও রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়। সোহাগী আর স্বপ্না রানী ছাড়াও জাতীয় দলে একাডেমির কোহাতি কিসকুও রয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলছেন সাগরিকা ও অনন্য মুরমু। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৭ নারী সাফ ফুটবলে নেপালের সঙ্গে পিছিয়ে থাকা খেলায় বাংলাদেশের পক্ষে গোল করে সমতা এনেছিলেন এ সাগরিকা। জাতীয় দলে বিভিন্ন সময়ে এখানকার ১৩ জন ফুটবলার খেলার সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে তিনজন জাতীয় দলে ও অনূর্ধ্ব-১৭তে দুজন ফুটবলার খেলছেন।৷এছাড়া বিদেশের মাঠে পাঁচজন এবং দেশের বিভিন্ন লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ১৭ জন।
নারী ফুটবলার কাকলী আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফুটবল খেলার কারণে প্রতিবেশী থেকে শুরু করে অনেকে কটাক্ষ করেছেন। আমরা নাকি সমাজের সম্মান নষ্ট করে দিয়েছি। আরো অনেক কথা শুনতে হয়েছে। তবে এখন আর কেউ কটাক্ষ করেন না। একসময় যারা কটাক্ষ করতেন তারা এখন তাদের মেয়েদের নিয়ে আসেন ফুটবলার হিসেবে তৈরি করার জন্য।’
মাঠের পাশে মেয়ের খেলা দেখছিলেন মহসিন আলী। তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমরা অনেকে অনেক কথা বলেছি৷। পরে দেখলাম মেয়েরা দেশ-বিদেশে আমাদের সুনাম বয়ে নিয়ে আসছে। তারা আর পেছনে পড়ে নেই। সে কারণে আমিও আমার মেয়েকে ফুটবলার বানানোর জন্য মাঠে পাঠাই।’
দলটির কোচ সুগা মুরমু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দক্ষ ফুটবলার হিসেবে তাদের গড়ে তোলার জন্য।’
নারী ফুটবল দলটির পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকজন মেয়ে নিয়ে যাত্রা করেছিলাম। সবার সহযোগিতা আর মেয়েদের চেষ্টায় আমরা অনেক পথ পাড়ি দিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা আরো অনেক পথ পাড়ি দেয়ার।’
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রাঙ্গাটুঙ্গির মেয়েরা সুনাম বয়ে নিয়ে এসেছে। সেখানে তাদের জন্য ওয়াশ ব্লক করে দিয়েছি যাতে তারা আরো ভালোভাবে অনুশীলন চালিয়ে নিতে পারে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তত্ত্বাবধান করা হবে।’










