বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, আপনারা অনেকেই জানেন, আমরা নির্বাচিত হওয়ার নয় দিনের মাথায় এদেশের কৃষক, খেটে খাওয়া বিশেষ করে কৃষকদের যে কৃষি ঋণ ছিল তা মওকুফ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

আজ রোববার দুপুরে নগরীর টাউন হলের ভাষা সৈনিক এম. শামছুল হক মুক্তমঞ্চে নিম্ম আয়ের ৬৬৯টি পরিবারের মাঝে টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) উদ্যোগে বস্তি এলাকায় বসবাস করা নিম্নআয়ের এসব পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে টিন বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যদি একটু হিসাব করি, অনেক সরকার এসেছে। কিন্তু প্রান্তিক-সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে বিগত সরকারগুলোকে খুব বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। আমরা ব্যস্ত থাকি যারা প্যান্ট পরা মানুষ, যারা শিক্ষিত উচ্চতর মানুষ, আমরা সেখানে বেশি নজর দেই।

তিনি আরো বলেন, এমনিভাবে আমরা কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ সময় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অসহায়দের নিজস্ব উদ্যোগে হেলথ কার্ড বিতরণ কর্মসূচির প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, আজকে ৬৬৯ জন পরিবারকে টিন দেয়া হচ্ছে। এটা অত্যন্ত মহতী উদ্যোগ। এ সিটি করপোরেশনে লাখ-লাখ, কোটি-কোটি টাকার বাজেট হয়েছে, কিন্তু প্রান্তিক মানুষগুলোর জন্য বিগত সময়ে আমরা কিছু করতে দেখিনি। এখানে লুটপাট হয়েছে। মানুষের কল্যাণে এখানে কোনো কার্যক্রম নেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে দেখবেন শহর থেকে শহর তৈরি হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রান্তিক মানুষ, গ্রামের মানুষ যারা আছে তাদের জন্য আমাদের যে চিন্তা করা উচিত, আমাদের জনপ্রতিনিধিদের যে ভাবা উচিত সেই জায়গায় যদি আমরা উন্নয়ন না করে থাকি তাহলে সার্বিকভাবে আমরা দেশের উন্নয়নের আগাতে পারব না।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, গত ১২ জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দলকে এদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। সরকার নির্বাচনের পূর্বে যে ওয়াদাগুলো করেছিল তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দা ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ প্রমুখ।