রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরেই থাকে। এর মধ্যে ছোলার বাজার থাকে অস্থির। তবে এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ছোলার আমদানি বাড়ায় দামও কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪ টাকা কমে ৭৪-৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানে দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। ছোলা আমদানি বাড়ায় রাজস্বের পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্দর দিয়ে কিছুদিন ধরেই ছোলা আমদানি অব্যাহত। ফেব্রুয়ারিতে ২১৮টি ট্রাকে ৮ হাজার ৮০ টন আমদানি হয়েছে। এছাড়া জানুয়ারিতে বন্দর দিয়ে তিনটি ট্রাকে ৯০ টন আমদানি হয়েছিল। বন্দরে এসব ছোলা প্রকারভেদে ৭৪-৭৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ছিল ৭৮-৮০ টাকা।
আইয়ুব হোসেন নামের এক পাইকারি ক্রেতা বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী হিলি স্থলবন্দর থেকে পণ্য কিনে আমরা সরবরাহ করি। মূলত আমরা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে স্থলবন্দর থেকে পণ্য পছন্দ করে কিনে পাঠিয়ে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘রমজানের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ছোলার দাম কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে ৭৮-৮০ টাকা কেজিতে কেনাবেচা হলেও বর্তমানে তা ৭৪-৭৬ টাকায় নেমেছে।’
হিলি স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক ফিরোজ আলম বলেন, ‘বন্দর দিয়ে প্রচুর ছোলা আমদানি হচ্ছে। এতে কাজের পাশাপাশি আমাদের আয়ও বেড়েছে। মাঝে কাজ কমে যাওয়ায় দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন তা বেড়ে ৬০০-৭০০ টাকা হয়েছে।’
হিলি স্থলবন্দরের ছোলাবুট আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘রমজানকে ঘিরে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যাংকগুলো চাহিদামাফিক ছোলা আমদানির জন্য এলসি দিচ্ছে। রমজানে এসব পণ্যের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে বন্দরের ছোট-বড় সব ধরনের আমদানিকারকরা ছোলা আমদানিতে এলসি খুলেছেন। এরই মধ্যে ভারত থেকে এসব এলসির বিপরীতে ছোলার বড় চালান প্রবেশ করছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি অনেকটা বেড়েছে। আগে বন্দর দিয়ে পাঁচ-সাত ট্রাক আমদানি হলেও বর্তমানে প্রতিদিন ভারত থেকে ১০-১৫ ট্রাক ছোলা আসছে।’ আমদানীকৃত এসব ছোলার পরীক্ষণ, শুল্কায়ন শেষে দ্রুত খালাস করে দেশের বাজারে পৌঁছে দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।









