শিল্পকর্ম জামানত রেখে নেয়া ঋণে খেলাপি হয়ে পড়া বাড়ছে। ২০২৪ সালে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেয়া এ ধরনের ঋণে খেলাপের হার বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দুই বছর আগে ছিল ১৭ শতাংশ। এর মানে হলো ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শিল্পকর্ম জামানত রেখে ঋণ নেয়া অর্ধেক ব্যক্তিই সময়মতো ঋণের অর্থ বা কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি।

ঋণ খেলাপের এ হার অবশ্য কভিড মহামারীর প্রথম বছর ২০২০ সালের তুলনায় ভালো। ওই সময় দুই-তৃতীয়াংশ ঋণগ্রহীতা খেলাপি হয়ে পড়েছিলেন। এ পরিস্থিতির মূল কারণ হলো ২০২২ সাল থেকে সংকুচিত হচ্ছে শিল্পকর্ম বাজার। বিশেষ করে এশিয়ার আর্ট মার্কেটে ধনী ক্রেতাদের চাহিদার পতন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ সংকট তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক শিল্পকর্ম বাজারের আকার ১২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে নেমেছে।

নিয়ম অনুসারে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে ঋণদাতারা শিল্পকর্মের মালিকানা নিয়ে নিতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত জামানত রেখে অর্থ ফেরতের সময় বাড়ানো যায়।

এ ধরনের লেনদেনে ব্যাংক-বহির্ভূত ঋণদাতারা প্রায়ই লোন টু ওন মডেল ব্যবহার করেন। এতে ঋণ আদায় আর মূল লক্ষ্য থাকে না। বরং ডিফল্ট হলে ঋণদাতারা শিল্পকর্ম কম দামে নিজের মালিকানায় নিয়ে নেয়। এ সুযোগ কাজে লাগাতে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগ্রহীতার সঙ্গেও লেনদেন করে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অবশ্য শিল্পকর্ম জামানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণে খেলাপি হয়ে পড়ার হার কম। কারণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় গ্রাহকের সঙ্গে ঋণ পুনর্বিন্যাসের বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা রয়েছে।

সাধারণত জামানত হিসেবে দুই-আড়াই লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যমানের শিল্পকর্ম নেন ঋণদাতারা এবং একাধিক শিল্পীর কাজের ওপর বিনিয়োগ করে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করেন। বিশেষ করে মনে থেকে ওয়ারহল পর্যন্ত ইমপ্রেশনিস্ট ও আধুনিক শিল্পকর্ম পছন্দ করেন ঋণদাতারা। উদীয়মান শিল্পীর কাজে কম ঝুঁকি নেন তারা।

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক খাতে এ ধরনের ঋণ বাবদ সুদহার সাধারণত ১০-১৫ শতাংশ। কখনো কখনো ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। তবে তুলনামূলকভাবে কম সুদহার নেয় ব্যাংকগুলো।

গত বছর শিল্পকর্ম জামানত রেখে নেয়া ঋণের বাজার প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৭ সালে এ বাজারের আকার ৫ হাজার কোটি ডলার ছুঁতে পারে। খবর ও ছবি এফটি