ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য কমিয়েছে বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সুদহার বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনা করে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা গতিশীল থাকায় চলতি অর্থবছরে বাড়ানো হয়েছে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এশীয়-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লুই কাইস জানান, ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে আপডেট করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি থাকবে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। যদিও আগের পূর্বাভাসে ৬ শতাংশ থাকার কথা বলা হয়েছিল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা গতিশীল থাকায় মূল্যস্ফীতি ও রফতানি হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে। তবে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে আসতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সুদহার বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ থাকার কথা বলা হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের জন্য এসঅ্যান্ডপির ঘোষিত এ পূর্বাভাস রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) পূর্বাভাসের চেয়ে কম। আরবিআই এর আগে এ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিল। অবশ্য দেশটির জিডিপি ২০১৯ সালের মহামারী-পূর্ব পর্যায়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এদিকে আগামী বছরের জন্য এসঅ্যান্ডপির ঘোষিত পূর্বাভাসও আরবিআইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। আরবিআই এর আগে প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিল।

লুই কাইসের দাবি অনুসারে, জুলাই-সেপ্টেম্বরে ভারতে খাদ্যমূল্যস্ফীতি ছিল উল্লেখযোগ্য। হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতিকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জুলাইয়ে দেশটিতে খুচরা পণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অক্টোবরে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশটির মানিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) দেয়া পূর্বাভাস অনুসারে, খুচরা পণ্যের মূল্যস্ফীতি চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪ থাকবে। যেখানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৪, তৃতীয় প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৬ এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৫ দশমিক ২ শতাংশ থাকবে।

এদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের পূর্বাভাস অনুসারে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির গতি স্বাভাবিক। অভ্যন্তরীণ চাহিদা গতিশীল থাকায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশে প্রবৃদ্ধি থাকবে স্বাভাবিক। তবে সে তুলনায় চীনের অগ্রগতি থাকবে অনেকটা মন্থর। আগামী দিনগুলোয় আবাসন খাতের সংকট দেশটির অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখবে। নীতিগত সহযোগিতার কারণে প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানে কিছুটা গতিশীল হলেও তা প্রত্যাশিত নয়।