অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সম্প্রসারণ নীতি ও উচ্চ সুদহারের সুফল ভোগ করছে সৌদি আরবের ব্যাংকগুলো। ২০২৩ সালে মাইলফলক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি সম্পদ অর্জিত হয়েছে এ খাতে। বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধির হারও ডাবল ডিজিটের কাছাকাছি। খবর আরব নিউজ।
সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জ তাদাউলে তালিকাভুক্ত ১০টি ব্যাংক এ সময় শক্তিশালী কার্যক্ষমতা দেখিয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা বেড়েছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ খাতে সম্পদ বেড়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএএমএর দেয়া তথ্যানুসারে বিশ্লেষক সংস্থা কেপিএমজি জানিয়েছে, সৌদি ব্যাংকগুলো গত বছর ৭ হাজার ৭ কোটি রিয়াল (১ হাজার ৮৬৮ কোটি ডলার) মুনাফা করেছে। ২০২২ সালে এ অংক ছিল ৬ হাজার ২৭২ কোটি রিয়াল। এছাড়া আগের বছরের ৩ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন রিয়াল থেকে ২০২৩ সালে মোট সম্পদ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন রিয়াল বেড়েছে।
কেপিএমজির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে ব্যাংক খাতে অর্জিত সম্পদ অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও উচ্চ সুদহারের প্রতিফলন। ২০২৪ সালেও এ গতি অব্যাহত থাকতে পারে।
সংস্থার আর্থিক পরিষেবা বিভাগের প্রধান ওভাইস শাহাব এক বিবৃতিতে জানান, পাইকারি ও খুচরা বিভাগে ভালো পারফরম্যান্স ছিল এ বছর। উভয় ক্ষেত্রে ঋণ খেলাপের বিস্তৃতি কোনো ঘটনা ছিল না। অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সুযোগ পেয়েছেন সংকটে পড়া ঋণগ্রহীতারাও। ঋণের অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে তাদের জন্য শর্তগুলো সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে সম্পদ ও দায়ের অনুপাতে নিট মার্জিন বেড়েছে। এছাড়া ফি থেকে আয় বছরওয়ারি ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৩ সালে ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ২ শতাংশে, যা প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ়ভাবে সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। এছাড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত তারল্য বজায় রাখার জন্য একাধিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান ধরে রাখতে ব্যাংকগুলো আয়ের পুনর্বিনিয়োগ ও ইসলামি বন্ড সুকুক জারির কৌশলগুলো অব্যাহত রেখেছে।
তবে সামনের দিকে যে অনিশ্চয়তা নেই এমন নয়। কারণ বৈশ্বিক ব্যাংক খাতের সমস্যাগুলো থেকে এ অঞ্চল আলাদা নয়। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ভূরাজনীতির হুমকিগুলো শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ কারণে একাধিক দেশে প্রবৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। প্রযুক্তি ও পরিচালনগত সমস্যাগুলো সব অর্থনীতির জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে।
ওভাইস শাহাব বলেন, ‘ঝুঁকি মোকাবেলায় বাজারের অংশীদারদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ও দেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এজেন্ডাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’










