নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা লেগেছে পাম অয়েল খাতেও। পণ্যটির চাহিদা কমতির দিকে রয়েছে। ফলে অন্যান্য ভোজ্যতেলের তুলনায় পণ্যটির দাম কমতির দিকে রয়েছে। এদিকে রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্যটির রফতানি শুল্কে বিশেষ ছাড় দিয়েছে মালয়েশিয়া, যা আগামী মাস থেকে কার্যকরের কথা রয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ মজুদ শেষের দিকে থাকায় চীন ও ভারতে পণ্যটির আমদানি চাহিদা বাড়ছে। ভারত ও চীনের বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যটির চাহিদায় চাঙ্গা ভাব ফিরতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি মালয়েশিয়া থেকে ভোজ্যতেলটির রফতানি বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন পণ্যবাজার বিশ্লেষকরা। খবর নিউ স্ট্রেইট টাইমস।

সম্প্রতি মহামারী পরবর্তী সময়ে পাম অয়েলের বাজার নিয়ে আলোচনার জন্য মালয়েশিয়া পাম অয়েল কাউন্সিল একটি ওয়েব সেমিনার করে। অধিবেশনটিতে ৬০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ইন্ডিয়ান ভেজিটেবল অয়েল প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (আইভিডিএ) সভাপতি সুধাকর দেশাই, কুয়ালালামপুর কিপং বারহাদের বিজনেস ডিরেক্টর ওয়ি লিয়াং হিন এবং লিপিদোস সান্তিগার সেলস ডিরেক্টর জোস এনজেল অন্যতম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন এমপিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতুক কল্যাণ সুন্দরম।

অধিবেশনে আইভিডিএর সভাপতি সুধাকর দেশাই জানান, ভারতে পাম অয়েলের মজুদ কমে বর্তমানে ৫ লাখ ৮০ হাজার টনে নেমেছে। এ সময় ওয়ি লিয়াং হিন জানান, চীনেরও ভোজ্যতেলটির মজুদ দ্রুত কমছে। বর্তমানে দেশটি পাঁচ লাখ টন পাম অয়েল মজুদ রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে ভারত ও চীন। ফলে দেশ দুটি শিগগিরই পণ্যটির আমদানি বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় পাম অয়েল রফতানিতে মালয়েশিয়ার বিশেষ শুল্ক ছাড় আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি প্রতি টন মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১৪২ ডলার। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সয়াবিন তেলের তুলনায় পণ্যটি অনেক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। দেশাই প্রত্যাশা করছেন, আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে পণ্যটির মানভিত্তিক আমদানি দ্বিগুণ বেড়ে গড়ে আট লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। যেখানে গত এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে চার লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, তবে সামগ্রিকভাবে পণ্যটির রফতানি কমতির দিকে থাকতে পারে। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত মোট ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টন পাম অয়েল আমদানি করতে পারে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৩ শতাংশ কম। এ সময় তিনি প্রকাশ করেন, ভারত সরকার ভোজ্যতেলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। ফলে ২০২৫ সাল নাগাদ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত ভোজ্যতেলের সরবরাহ ৫৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। এটি সম্ভব বলে ভোজ্যতেলে দেশটির স্বনির্ভরতা ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত হবে।

এ সময় ওয়ি লিয়াং হিন অনুমান করে বলেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) চীনে পাম অয়েলের চাহিদায় উল্লম্ফন মিলতে পারে। তিনি বলেন, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে চীনে ভোজ্যতেলটির চাহিদা বেড়ে প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ ৯০ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে। বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দেশটিতে পণ্যটির মাসপ্রতি গড় চাহিদা ছিল ৪ লাখ ২ হাজার টন। চাহিদা বাড়ায় দেশটি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কায় চলতি বছর সামগ্রিকভাবে চীনেও পণ্যটির আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। ২০২০ সাল দেশটিতে ভোজ্যটির আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ কমে ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টনে নামতে পারে।