আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে কয়লার ওপর করারোপের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। এজন্য কয়লাভিত্তিক ফান্ড এজেন্সি তৈরির কথাও ভাবছে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্স।

দেশটির জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) এ কথা জানান। মূলত দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও শিল্প-কারখানায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণে দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে বিশ্বের অন্যতম তাপীয় কয়লা রফতানিকারক দেশটি কয়লা রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, আমাদের আশা আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কর আদায় করবে। কয়লার বৈশ্বিক বাজারমূল্য ও অভ্যন্তরীণ বাজারের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে সেটি দূর করতে করের অর্থ ব্যয় করা হবে।

আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকার প্রতি টন কয়লার মূল্য ৭০ ডলার নির্ধারণ করেছিল। অন্যদিকে স্থানীয় সিমেন্ট, সার উৎপাদনকারী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্য ছিল ৯০ ডলার প্রতি টন। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার মূল্য ও অভ্যন্তরীণ মূল্যের এত পার্থক্য থাকার কারণে দেশীয় বাজারের যেসব বাধ্যবাধকতা বা নিয়ম রয়েছে সেগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কয়লা ওপর নতুন করে আরোপ হতে যাওয়া করহার কেমন হবে সে বিষয়ে আরিফিন কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি জানান, কয়লা ক্যালোরিফিক মানের ভিত্তিতে এটি নির্ধারণ করা হবে। প্রসঙ্গত, ক্যালোরিফিক মান কয়লায় কী পরিমাণ কার্বন রয়েছে তার হার অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

আরিফিন বলেন, ক্যালোরিফিক মান কম হলে করও কম থাকবে। কারণ এর বিক্রিমূল্য কম। আবার ক্যালোরিফিক মান বেশি হলে করও বাড়বে। কেননা এর বিক্রি মূল্য বেশি।

স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় সরবরাহ ঠিক রাখতে এর আগে কয়লা রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগেরই জ্বালানি পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানিতে গুরুত্ব দিয়ে। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ইন্দোনেশিয়ার দুয়ার বন্ধ হয়ে গেলে প্রয়োজনে বিকল্প বাজার থেকে কয়লা আমদানি করা হবে।

বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল সময় পার করছে। বিশেষ করে এলএনজিসহ প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক পণ্যগুলোর মূল্য পরিস্থিতি আমদানিকারক দেশগুলোকে বিপদে ফেলে দিয়েছে।

অন্যদিকে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় কয়লার ব্যবহার বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।