চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি আগস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে। আমদানি জুলাইয়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির শুল্ক বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের দেয়া তথ্য অনুসারে, গত মাসে চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ কোটি ২৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। চীনের ইতিহাসে দৈনিক ভিত্তিতে একক কোনো মাসে এ পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানির তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড এটি।
পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগে আমদানি বেড়েছে। দাম বাড়তি থাকায় উচ্চ মুনাফা মার্জিনের আশায় চীনা শোধনাগারগুলো পরিশোধন কার্যক্রম বাড়িয়েছে।
জুলাইয়ে চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ১ কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল, যা জুনের দৈনিক ১ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল আমদানির রেকর্ড থেকে কম। তবে আগস্টে আমদানির পরিমাণ বছরওয়ারি ১৭ শতাংশ বেশি ছিল।
গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ ভ্রমণ চাহিদাকে সামনে রেখে আগস্টে পরিশোধনকারীরা বহুগুণে উৎপাদন বাড়িয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে এবারই প্রথম লকডাউনমুক্ত গ্রীষ্ম উপভোগ করছে চীন। এ সময় পরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করে উচ্চ মুনাফা তুলে নিতে জোর প্রয়াস চালাচ্ছে পরিশোধন কেন্দ্রগুলো। বছরের তৃতীয় সর্বোচ্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করায় এ বছর পরিশোধন খাতের আয় অনেক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত সপ্তাহে চীন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং আরো বেশি রফতানি বাড়াতে সরকারও পরিশোধনকারীদের প্রণোদনা দিচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে চীনের জ্বালানি চাহিদা সর্বোচ্চে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারে গতকালও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দাম বাড়াতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোয় চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দাম বাড়াতে সহায়তা করছে।
আইসিই ফিউচারসে গতকাল নভেম্বর সরবরাহ চুক্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৮৫ সেন্ট বা দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৯১ ডলার ৪৯ সেন্টে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১ ডলার ২ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৮ ডলার ৩১ সেন্টে।










