চলতি বছর রোবাস্তা কফির বৈশ্বিক দাম ব্যাপক বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। গত বছরের তুলনায় দাম বাড়তে পারে প্রায় ২৮ শতাংশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রধান কফি উৎপাদক দেশগুলো বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে লম্বা সময় ধরেই লড়ছে। তার ওপর নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এল নিনো। ফলে কফির বৈশ্বিক উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এ কারণেই পানীয় পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জরিপে দেয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রোবাস্তা কফির গড় দাম টনপ্রতি ২ হাজার ৩০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে, যা গত বছরের শেষ সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। এশিয়ার দেশগুলোয় এরই মধ্যে এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এসব দেশে কফি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন পরিস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
রাবোব্যাংকের বিশ্লেষক কার্লোস মেরা বলেন, ‘ভিয়েতনাম বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদক। দেশটিতে কফি উৎপাদনের জন্য উন্নত সেচ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন বৃষ্টিপাতের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তাই শুষ্ক আবহাওয়া সেখানকার উৎপাদন পরিস্থিতির জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।’
২০২৩-২৪ মৌসুমে ভিয়েতনামে ২ কোটি ৯৬ লাখ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) রোবাস্তা উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় কিছুটা কম। মার্কিন কৃষি বিভাগ জানায়, ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশটিতে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যাগ কফি উৎপাদন হয়েছিল।
এদিকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অ্যারাবিকা কফির দাম পাউন্ডপ্রতি ১ ডলার ৫৩ সেন্টে স্থির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। তবে গত বছরের শেষ সময়ের তুলনায় তা ৮ শতাংশ কম।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ব্রাজিলে অ্যারাবিকা কফির উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু এ সময় পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হয়ে উঠতে পারে। ফলে দাম আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জরিপের পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ব্রাজিলে কফি উৎপাদন ৬ কোটি ৯৮ লাখ ব্যাগে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে বলছেন, উৎপাদন সাত কোটি ব্যাগ ছাড়িয়ে যেতে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, ব্রাজিলে ২০২০-২১ মৌসুমে রেকর্ড কফি উৎপাদন হয়েছিল। উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৯৯ লাখ ব্যাগ।
২০২২-২৩ মৌসুমে ঘাটতিতে ছিল কফির বৈশ্বিক বাজার। ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৭ লাখ ব্যাগ। তবে ২০২৩-২৪ মৌসুমে পরিস্থিতি উদ্বৃত্তে রূপ নিতে পারে। উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০ লাখ ব্যাগে।










