আগামী বছরের জন্য জ্বালানি তেলের মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করেছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের মূল্য পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার কমিয়ে ৭০-৯০ ডলারের মধ্যে নামিয়ে এনেছে মার্কিন এ প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র উত্তোলন বাড়ানোর ফলে জ্বালানিটির দাম কমবে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান। খবর রয়টার্স।

ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত উত্তোলন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে সীমিত করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নন, ওপেক দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অব্যাহত সরবরাহ জ্বালানিটির দাম বাড়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে।

গোল্ডম্যান জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুনে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারে উঠতে পারে। আর ২০২৪-২৫ বিপণন বছরে গড় দাম ৯২ ডলারের তুলনায় কমে নামতে পারে ৮১-৮০ ডলারে।

আইসিই ফিউচারসে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট লেনদেন হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ ডলারে। এ দাম গত কয়েক মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরের রেকর্ড দর থেকে অন্তত ২০ শতাংশ কম। একই সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলারে।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস মতে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দৈনিক ১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করতে পারে। পাশাপাশি বছরটিতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে ৯০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি, এর আগের পূর্বাভাসে যার পরিমাণ ছিল দৈনিক ৫০ হাজার ব্যারেল।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকটি বলছে, ওপেকের সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত, চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ বৃদ্ধি ও কিছুটা মন্দার আশঙ্কা জ্বালানি তেলের মূল্যের নিম্নমুখী ঝুঁকিকে কমিয়ে দিতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘২০২৪ সালে সৌদি আরবের উত্তোলন বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। আমরা মনে করি, ২০২৩ সালের এপ্রিলে ওপেক প্লাস দৈনিক ১৭ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা ২০২৫ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে পারে। সঙ্গে ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত অতিরিক্ত ২২ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমাবে।’ পূর্বাভাস সংশোধন করে গোল্ডম্যান বলছে, ওপেক স্বল্পমেয়াদে ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ও দীর্ঘমেয়াদে ৮০-৯০ ডলারের মধ্যে ব্রেন্ট লেনদেন করবে।

এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা আগামী বছর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাড়বে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। মাসিক প্রতিবেদনে সম্প্রতি আইইএ জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের ব্যবহার ২০২৪ সালে দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়াতে পারে। এর আগের পূর্বাভাস থেকে ব্যবহারের পরিমাণ দৈনিক ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বাড়িয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস প্রকাশের পর পরই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরে ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে গতকাল লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে হুতিদের আক্রমণের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে। গতকাল জ্বালানি পণ্যটির দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমার উদ্বেগও এ মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। গত কয়েকদিনে ডেনিশ শিপিং জায়ান্ট এপি মোলার-মায়েরস্ক, জার্মানির হ্যাপাগ-লয়েড, ফরাসি কোম্পানি সিএমএ সিজিএম, হংকংভিত্তিক ওওসিএল ও ইতালীয়-সুইস মালিকানাধীন মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি) এ রুট এড়িয়ে চলছে। যার প্রভাবে জ্বালানি তেলের পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে।