কভিড মহামারীর অভিঘাত সত্ত্বেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে ভিয়েতনাম। জুনে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির উল্লম্ফনের খবর প্রকাশ হয়। নতুন তথ্য হচ্ছে ২০২২ সালজুড়ে ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হার ১৯৯৭ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। যদিও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকির মধ্যে আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভিয়েতনামের শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধির পেছনে রফতানির পাশাপাশি এমন উল্লম্ফনের নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে অভ্যন্তরীণ খুচরা বিক্রি। তবে দেশটির অর্থনীতির একটি বড় অংশ যেহেতু রফতানির ওপর নির্ভর করে, তাই বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে খানিকটা বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সরকারি হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ। তাছাড়া গত বছর প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তখন কভিডজনিত লকডাউনে ব্যবসায় কার্যক্রমে প্রভাবের কারণে সামগ্রিকভাবেই দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে আন্তর্জাতিক বড় ও স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের পোশাক, পাদুকা ও ইলেকট্রনিকসের মতো পণ্যের মূল প্রস্তুতকারক ভিয়েতনাম। তাই বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমে গেলে দেশটির পণ্য রফতানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও উচ্চবার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে দেশটি।
দেশটির পরিসংখ্যান অফিস (জিএসও) এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং চ্যালেঞ্জের মধ্যে দেশটির অর্থনৈতিক কার্যক্রম লক্ষণীয়। ২০২২ সালে তাদের শিল্প ও নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বিপরীতে পরিষেবা খাত ৯ দশমিক ৯৯ ও কৃষি খাতের ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ সম্প্রসারণ ঘটেছে।
২০২২ সালে রফতানি ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৭ হাজার ১৮৫ কোটি ডলার, যেখানে খুচরা বিক্রি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ। জিএসও বলেছে, ডিসেম্বরে ভোক্তামূল্য সূচক এক বছরের আগের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
তবে ২০২২ সালে দেশটির অর্থনীতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। যদিও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে বিশ্বব্যাপী দুর্বল চাহিদা এরই মধ্যে দেশটির পণ্য রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
এ সম্পর্কে সরকারি উপদেষ্টা এবং ভিয়েতনামের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ক্যান ভ্যান লুক বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্দা ভিয়েতনামের জন্য রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী বছর বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণকে কঠিন করে তুলছে। লুক আরো বলেন, ২০২২ সালের শেষের দিকে ঊর্ধ্বমুখী মুদ্রাস্ফীতির চাপও তৈরি হচ্ছে। ভিয়েতনামকে অনেক পণ্য আমদানি করতে হবে, যার দাম এখনো বেশি। এভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য চাপও বাড়াচ্ছে।
ডিসেম্বরে দেশটির রফতানি এক বছরের আগের তুলনায় ১৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৬৬ কোটি ডলারে দঁড়িয়েছে। বিপরীতে দেশটির আমদানি ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯১৬ কোটি ডলার হয়েছে। আমদানি হ্রাস ভবিষ্যতে শিল্পোৎপাদন সংকোচনের ইঙ্গিত বহন করে। কারণ এ অবস্থায় সংস্থাগুলো উৎপাদনের জন্য তাদের উপকরণ ও সরঞ্জাম ক্রয় কমিয়ে দেয়।










