নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গ্র্যাজুয়েট কলোকিয়াম সিরিজ: ফল ২০২৫’। এতে অংশ নেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা অফিসের পরিচালক ড. নরম্যান কেনেথ সোয়াজো। আলোচক ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের প্রভাষক আহমেদ রাগীব চৌধুরী।

আলোচনার শুরুতে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহই ভবিষ্যতের একাডেমিক উৎকর্ষের মূল চালিকাশক্তি। তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও বিষয় নির্বাচনের প্রশংসা করেন।

ড. বুলবুল সিদ্দিকী বলেন, উপস্থাপিত প্রতিটি প্রবন্ধের কাঠামো, তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও নীতিগত প্রভাব একাডেমিক গবেষণার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণার ফল প্রকাশে উৎসাহিত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে ড. নরম্যান কেনেথ সোয়াজো বলেন, গবেষণা কেবল একাডেমিক অর্জন নয়। এটি পেশাগত বিকাশেরও ভিত্তি। শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে অংশ নেন এসআইপিজি বিভাগের মনীশ কুমার আগরওয়াল, আইন বিভাগের আখলাক উল ইসলাম, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের মনিরুল ইসলাম বাপ্পী এবং ইংরেজি ও আধুনিক ভাষা বিভাগের সুরিয়া আখতার সৃষ্টি।

মনীশ কুমার আগরওয়াল ‘বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা’ শীর্ষক প্রবন্ধে স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আখলাক উল ইসলাম ‘উন্নয়নশীল জাতির ডিজিটাল বাণিজ্য ও সার্বভৌমত্ব’ প্রবন্ধে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের নীতিগত তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

মনিরুল ইসলাম বাপ্পী ‘আখ, রাষ্ট্র ও ভূরাজনীতি: উত্তরবঙ্গের শিল্পায়ন (১৯৩০–১৯৬০)’ প্রবন্ধে আখশিল্পের অর্থনৈতিক প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

সুরিয়া আখতার সৃষ্টি ইংরেজি সাহিত্যের ‘আগামেমনন’ নাটকে নারীবাদের প্রতিরোধ বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, ধ্রুপদী ট্র্যাজেডির নারী চরিত্রগুলো পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।

শেষ পর্বে শিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীরা উপস্থাপিত প্রবন্ধ নিয়ে মতামত দেন। প্রাণবন্ত আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে কৃতিত্বের সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

—বিজ্ঞপ্তি