সিঙ্গাপুরের শিল্পােৎপাদন চলতি বছরের আগস্টে ১২ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এ নিয়ে টানা ১১ মাসের মতো খাতটিতে পতন দেখছে দেশটি। আগস্টের শিল্পোৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্নে। বৈশ্বিক চাহিদা কমায় ইলেকট্রনিক শিল্পে পতন ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্পোৎপাদন সূচকে। সিঙ্গাপুর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।
রয়টার্সের অর্থনীতিবিদরা ৩ দশমিক ১ শতাংশ পতনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু শিল্পোৎপাদন খাতের পতন ছিল পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। বায়োমেডিকেল খাত বাদ দিলে সার্বিকভাবে শিল্পোৎপাদন পতন ঘটেছে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
সিঙ্গাপুরের সার্বিক শিল্পোৎপাদনের ৪৫ শতাংশই ইলেকট্রনিক খাত। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় আগস্টে খাতটিতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পতন ঘটেছে ২০ শতাংশ। ইলেকট্রনিকসের মধ্যে আবার সেমিকন্ডাক্টর উপখাতে পতন ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। জুলাইয়ে দেশটিতে সেমিকন্ডাক্টর খাতে ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও আগস্টে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ পতন ঘটেছে। বছরের প্রথমার্ধে সার্বিকভাবে ইলেকট্রনিক উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিবিএস ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ চুয়া হান তেং জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্পোৎপাদন পুনরুদ্ধার কার্যক্রম হবে মন্থর। তিনি বলেন, ‘শিল্প খাত এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সরবরাহ চেইন। তবে গত তিন মাসের সূচক দেখে বোঝা যাচ্ছে, শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম তার সর্বনিম্ন সীমায় রয়েছে। বর্তমান শিল্পোৎপাদন গতিই প্রমাণ করে চলতি বছরে প্রবৃদ্ধির হার শক্তিশালী হবে না। পরিষেবা ও পর্যটন খাতে সম্প্রসারণ ঘটলেও প্রবৃদ্ধিতে ক্ষত থেকে যাবে।
ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের তথ্য হতে দেখা যাচ্ছে, চিপ উৎপাদনের পতন ঘটেছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে পতনের প্রভাব পড়েছে খাতটিতে। বায়োমেডিকেল শিল্পে উৎপাদন আগস্টে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। চিকিৎসা যন্ত্রপাতির রফতানি বেড়ে যাওয়ায় মেডিকেল প্রযুক্তি উপখাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে উৎপাদন কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সাধারণভাবে শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম ২০২২ সালের আগস্টে ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছিল। তখন ব্যাটারি উপাদান ও কাঁচামাল ছিল উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।
পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় আগস্টে শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম কমেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। গত মাসের শিল্পোৎপাদনে বিশ্লেষকের পূর্বাভাস ছিল দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশের মাঝামাঝি প্রবৃদ্ধি। বিশেষ করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও শিল্পোৎপাদন খাত পর্যালোচনা করে দেয়া হয়েছে পূর্বাভাস।
ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকের (ইউওবি) বিশ্লেষক আলভিন লিয়েও ও জেস্টার কোহ পূর্বাভাস দিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি থাকবে দশমিক ৪ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে কম। পূর্ববর্তী পূর্বাভাসে দেশটির প্রবৃদ্ধি দশমিক ৭ শতাংশ থাকার কথা বলা হয়েছিল। তারা বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় শিল্পোৎপাদন খাতে মন্থর থাকবে সামনের দিনগুলোয়। তবে মহামারী-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে। পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ ও ব্যাংক খাতের কার্যক্রম দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে।










