সরবরাহ কমার অজুহাতে দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে আবারো জিরার দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। প্রতি কেজি জিরার দাম ৯২০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হিলির মসলার দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানেই পর্যাপ্ত জিরার সরবরাহ আছে। এর পরও সরবরাহ কম বলে মসলাটি বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
হিলি বাজারের মসলা দোকানি গোলাম মর্তুজা শিফাত বলেন, ‘জিরার দাম কখনো কমছে আবার কখনো বাড়ছে। ঈদের সময় জিরাসহ অন্যান্য মসলার বাড়তি চাহিদা থাকে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় এবার দাম বাড়তে বাড়তে ৯৫০ টাকায় ঠেকেছে। ভারতের বাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারে জিরার দাম বাড়ছে বলে দাবি আমদানিকারকদের।’
হিলি স্থলবন্দরের জিরা আমদানিকারক ললিত কেশেরা বলেন, ‘ঈদুল আজহায় টানা ছয়দিন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ফলে ওই সময় জিরা আমদানি হয়নি। এ কারণে দেশের বাজারে পণ্যটি সরবরাহে কিছুটা সংকট দেখা দেয়। বেড়ে যায় দাম। তবে ঈদের ছুটি শেষে হিলিসহ দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হলে ভারত থেকে জিরা আসতে শুরু করে। তবে আমরা ভারতের যে অঞ্চল থেকে জিরা আমদানি করি, সেখানেই এবার জিরার দাম বাড়তি। প্রতি বছর ভারতে যে পরিমাণ জিরা উৎপাদন হয় এবার বৈরী আবহাওয়ায় সে পরিমাণ উৎপাদন হয়নি। বাড়তি দামে আমদানি করতে হওয়ায় দেশের বাজারে দাম বাড়ছে। এছাড়া ডলার রেট বাড়ায় শুল্ক বেশি দিতে হচ্ছে। আগে প্রতি কেজি জিরার আমদানি শুল্ক ছিল ১০৫ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। এর প্রভাব জিরার দামের ওপর গিয়ে পড়ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে ৩ জুলাই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়। এদিন বন্দর দিয়ে দুটি ট্রাকে ৫৫ টন জিরা আমদানি হয়েছিল। ৪ জুলাই তিন ট্রাকে ৮৫ টন জিরা আমদানি হয়েছিল। ৫ জুলাই চারটি ট্রাকে ১১০ টন জিরা আমদানি হয়। ৬ জুলাই ছয়টি ট্রাকে ১৬০ টন জিরা আমদানি হয়। এছাড়া গত জুনে ৭৭টি ট্রাকে ২ হাজার ১৯০ টন জিরা আমদানি হয়েছে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে আমরা নিয়মিত বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করছি। কৃত্রিম মজুদ ঠেকাতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দাম বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’









