তুরস্কের রফতানি পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ইস্পাত। দেশটি থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে শিল্প ধাতুটি রফতানি হয়। তুরস্কের মোট রফতানি আয়ের ৮ শতাংশ আসে ইস্পাত থেকে। চলতি বছর দেশটির ইস্পাত রফতানি থেকে প্রাপ্ত আয়ে ধস নেমেছে। বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) এ খাত থেকে তুরস্কের রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পায় ১৭ শতাংশ কমেছে। ইস্পাত রফতানি আয়ে এ পতনের পেছনে খাতসংশ্লিষ্টরা নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীকে দায়ী করছেন। খবর রয়টার্স ও মেটাল বুলেটিন।

তুরস্কের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে দেশটির রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাত রফতানি করে সব মিলিয়ে ৫৯০ কোটি ডলার আয় করেছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে ইস্পাত রফতানি খাত থেকে তুরস্কের রফতানিকারকদের আয় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটির মোট রফতানি আয়ের ৮ শতাংশ এসেছে ইস্পাত থেকে।

এদিকে মাসভিত্তিক হিসাবে গত জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাত রফতানি করে তুরস্কের রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ১১০ কোটি ডলার আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যা ওই মাসে দেশটির মোট রফতানি আয়ের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এক বছরের ব্যবধানে জুনে শিল্প ধাতুটির রফতানি বাবদ দেশটির আয় বেড়েছে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

দেশটির সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাত রফতানি করে তুরস্কের রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ৮১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার আয় করেছিলেন, যা ওই মাসে দেশটির মোট রফতানি আয়ের ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় গত মে মাসে ইস্পাত রফতানি বাবদ তুরস্কের আয় কমেছে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

এ থেকে স্পষ্ট হয়, করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে তুরস্কের ইস্পাত রফতানি বাবদ আয় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এরপর যত দিন গেছে শিল্প ধাতুটির রফতানি আয় একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছে। মূলত জুনে ইস্পাত রফতানি করে সবচেয়ে বেশি

আয় করেছে তুরস্ক। তবে সামগ্রিকভাবে করোনা মহামারীর জের ধরে বছরের প্রথম ছয় মাসে ইস্পাত রফতানি খাত থেকে তুরস্কের আয়ে বড় ধরনের ধস দেখা গেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে ইস্পাত রফতানি করে তুরস্কের রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলার আয় করেছেন। এ আয়ের সিংহভাগ এসেছে ২০১৯ সালের শেষ ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর)।

তুরস্ক বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ ইস্পাত রফতানিকারক দেশ। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তুরস্ক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৯৭ লাখ টন ইস্পাত রফতানি হয়েছে। একই সময়ে দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১ কোটি ২৪ লাখ টন ইস্পাত আমদানি করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটি শিল্প ধাতুটির আমদানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ১৩তম অবস্থানে উঠে এসেছে।

এদিকে ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। ডব্লিউএসএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তুরস্কের কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। গত বছর দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৩ লাখ টনে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ৩৬ লাখ টন।

করোনা মহামারীর মধ্যেও চলতি বছর তুরস্কে ইস্পাত উৎপাদন বাড়তির দিকে থাকতে পারে বলে মনে করছে ডব্লিউএসএ। তবে বছর শেষে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে শিল্প ধাতুটির রফতানি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে আগের তুলনায় কমে আসতে পারে ইস্পাত রফতানি থেকে তুরস্কের রফতানিকারকদের আয়ও।