একদিকে করোনা সংক্রমণ ও লকডাউন, অন্যদিকে শ্রমিক সংকটে দক্ষিণ ভারতের চা শিল্প টালমাটাল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। দেখা দিয়েছে উৎপাদন হ্রাসের সম্ভাবনা ও সরবরাহ সংকট। এর জের ধরে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু রাজ্যের পাহাড়ি জেলা কনোড়ে অনুষ্ঠিত চায়ের নিলামে পানীয় পণ্যটির দামে নতুন রেকর্ড হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন।

দক্ষিণ ভারতের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয় নীলগিরি ও কনোড়ে। পানীয় পণ্যটির বিপণনের জন্য এ জেলার আলাদা খ্যাতি রয়েছে। ভারতে চায়ের অন্যতম বৃহত্তম নিলাম কেন্দ্র রয়েছে এখানে। কনোড়ের সাম্প্রতিক নিলামগুলোয় বাড়তির দিকে রয়েছে পানীয় পণ্যটির দাম। এখানে সর্বশেষ মৌসুমের ৩২ নং নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। কনোড় টি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নিলামে অর্থোডক্স জাতের চায়ের সর্বোচ্চ দাম উঠেছে কেজিপ্রতি ৪০৩ রুপি (ভারতীয় মুদ্রা)।

প্যারামাউন্ট টি মার্কেটিংয়ের জেনারেল ম্যানেজার রবিচন্দ্র জানান, কনোড়ের সর্বশেষ নিলামে নিশা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ৪০৩ রুপি দরে স্পেশাল গ্রেডের অর্থোডক্স চা কিনেছে। এটা শুধু কনোড়ের নিলামে নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে পুরো দক্ষিণ ভারতে চায়ের সর্বোচ্চ দাম।

হাই ক্লিফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি রাজেশ চন্দ্র বলেন, করোনা মহামারী দক্ষিণ ভারতে চায়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য এটা ভালো সংবাদ। কেননা বাড়তি দামেও পানীয় পণ্যটির বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। এতে শিল্পসংশ্লিষ্টদের করোনাকালীন আর্থিক লোকসান কিছুটা হলেও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, করোনাকালে ভারতে চা উৎপাদন ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। এ পূর্বাভাসের পর স্থানীয় বাজারে পানীয় পণ্যটির দাম ১২ শতাংশ বেড়েছে।

এক নোটে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চা উৎপাদনবারী দেশ। পণ্যটির রফতানি বাণিজ্যেও দেশটি প্রসিদ্ধ। করোনা মহামারীতে উৎপাদন কমে চায়ের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠতে পারবেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে রফতানি খাতে তা ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে পণ্যটির তুলনামূলক সস্তা বাজার কেনিয়া ও শ্রীলংকার দিকে ঝুঁকতে পারেন আমদানিকারকরা।