জাপানের জন্য সময়টা খারাপ যাচ্ছে। সম্প্রতি সংঘটিত কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে একটি হলো ইস্পাত। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশটি এসব দুর্ঘটনার কবলে কয়েকটি খনির কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এতে জাপানের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) দেশটিতে ধাতুটির উৎপাদন কমে ১০ বছরের সর্বনিম্নে চলে এসেছে। খবর রয়টার্স।
জাপান আয়রন অ্যান্ড স্টিল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশটি মোট ২ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কম। এছাড়া বিগত ১০ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এটাই ধাতুটির উত্তোলনের সর্বনিম্ন হার।
জাপানের বৃহত্তম ইস্পাত প্রস্তুতকারক কোম্পানি নিপ্পন স্টিল করপোরেশন বলছে, কোম্পানিটির কিমিতসু স্টিল ওয়ার্কসের দুটি ইস্পাত তৈরি প্লান্টের একটি চিমনি মেরামতের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ঝড়ের আঘাতে প্লান্টটি গত মাসে ধসে পড়ে।
এছাড়া নিপ্পন স্টিলের অধীনে পরিচালিত ও হিরোশিমায় অবস্থিত আরেকটি ইস্পাত তৈরির প্লান্ট কুড়ি ওয়ার্কসের কার্যক্রমও এ মুহূর্তে বন্ধ রয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে অপারেটিং রুমে অগ্নিকাণ্ডের জেরে প্লান্টটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
দেশটির খাতসংশ্লিষ্ট একজন গবেষক জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাদেও জাপানে শ্রমিক সংকট এবং বৈদ্যুতিক চুল্লিগুলোর ধীর উৎপাদনক্ষমতাও ধাতুটির উত্তোলনে মন্দা ভাবের জন্য দায়ী।
এর মধ্যে গত মাসে দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৮০ লাখ ৫০ হাজার টন, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কম। একই সঙ্গে চলতি বছরের আগস্টের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে আগস্টে পণ্যটির উৎপাদন কমেছে জুলাইয়ের তুলনায় ৩ শতাংশ। এ নিয়ে টানা তিন মাস দেশটিতে ধাতুটির উৎপাদন নিম্নমুখী রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সম্প্রতি পূর্বাভাস করে মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন বাণিজ্য বিরোধের কারণে এবার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর প্রভাবে উন্নয়নের অন্যতম অনুষঙ্গ ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এতে এশিয়ার ইস্পাত বাজার দুর্বল হয়ে পড়লেও জাপানে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এ পরিস্থিতিতেও দেশটিতে পণ্যটির চাহিদায় চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। মূলত









