পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইউরোজোনের চেয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিনিয়োগ সংস্থা আমুন্ডি এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। খবর আরটি।
ইউরোপের বৃহত্তম বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আমুন্ডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাশিয়ার মোট জিডিপি ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। বিপরীতে ইউরোজোনের অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে।
আমুন্ডির প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর সামান্য প্রভাব ফেলেছে। তাদের সম্পদ গত ২০ মাসে স্থির অবস্থায় রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে ইউরোপ বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার আমদানি ও রফতানিকে প্রভাবিত করতে পারেনি। পশ্চিমা বাজারে প্রবেশাধিকার হারানোর পর রাশিয়া ব্রিকস (ব্রাজিল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা), তুরস্ক এবং কাজাখস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি করেছে। এসব দেশের সঙ্গে ব্যবসা বৃদ্ধির ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির আশা করছে।
সম্প্রতি প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে আমুন্ডির চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার ভিনসেন্ট মর্টিয়ার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশ অন্য একটি দেশকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অন্য দেশের বাণিজ্য অনুমোদন করতে পারে না। পক্ষে-বিপক্ষে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু এটি একটি বাস্তবতা। একই সঙ্গে এটি একটি পরীক্ষাও। আমরা যদি ইউক্রেন যুদ্ধের হিসাব করতে বসি, ইউরোপ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাব পড়েনি। তবে তুরস্ক, মধ্য এশিয়া ও এশিয়ার অন্য অঞ্চল লাভবান হয়েছে।’
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে পশ্চিমের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে রাশিয়া, যা ২০২২ সালে দেশটির অর্থনীতিকে ২ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত করে। যা-ই হোক, সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায় যে দেশটি তখন থেকে বিধিনিষেধের সঙ্গে অনেকাংশে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় বছরের শেষ নাগাদ ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও সম্প্রতি রাশিয়ার জন্য তাদের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস আপডেট করছে। ইউরোপিয়ান কমিশনের সদস্যরা আশা করেন, রাশিয়ার জিডিপি এ বছর ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা আগের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে। ২০২৪ ও ২০২৫ উভয় বছরই ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করবে।










