বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি জলবায়ু পরিবর্তন। এ পরিবর্তন দৈনন্দিন জীবনযাপনকে বদলে দেবে, একদিকে সমুদ্রের পানি বেড়ে বহু এলাকা প্লাবিত হবে। অন্যদিকে, তৈরি হবে সুপেয় পানির সংকট। কঠিন হয়ে পড়বে খাদ্য উৎপাদন। কোনো কোনো অঞ্চল বিপজ্জনক মাত্রায় উষ্ণ হয়ে পড়বে। যার ফলে সেসব জায়গা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এমন বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করছে বিশ্ব। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
২০১৫ সালে প্যারিসে স্বাক্ষরিত জলবায়ু চুক্তির অন্যতম লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা৷। এজন্য উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল অর্থনীতি ও উদীয়মান বাজার ব্যবস্থার দেশগুলোকেও এ খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করতে হবে। এ বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ তহবিল সংগ্রহ করতে হবে বেসরকারি খাত থেকে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন পর্যবেক্ষণ।
বর্তমানে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন করছে। আইএমএফের তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ুগত পরিবর্তন রোধে তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা পূরণে দেশগুলোর বার্ষিক দুই ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। আগামী সাত বছরে এ খাতে দেশগুলোর ৪০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অধিকাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় করতে হবে বলে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমএফের একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আমাদের ধারণা সরকারি বিনিয়োগ সেভাবে বাড়বে না। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় জলবায়ু খাতে বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। মোট বিনিয়োগের ৮০ ভাগই তাদের বহন করতে হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ও ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নাহলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা অর্জনে ব্যর্থ হবে।
গত মাসে দেয়া এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) জানায়, ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু চলতি দশকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ও সরবরাহ তিন গুণ করতে জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন। আগামী দশকের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বৈশ্বিক ব্যয় ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে। চলতি বছর এর পরিমাণ ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। নেট জিরো রোডম্যাপ প্রতিবেদনে আইইএ এসব কথা জানিয়েছে। মূলত বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে এ উদ্যোগ কার্যকর করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ও সংরক্ষণ ক্ষমতা তিন গুণ বাড়াতে হবে। গত সপ্তাহে আইএমএফ জানায়, চীনসহ অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর নিজস্ব অর্থায়নের উৎস রয়েছে। কিন্তু অন্য অনেক দেশ এখনো জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বেসরকারি খাত থেকে বড় বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। গ্রিন হাউজ গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নির্গমন হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা এসব কেন্দ্র। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া বা নতুন করে সাজাতে বেসরকারি পর্যায়ে বড় বিনিয়োগ ও জনগণের সহায়তা প্রয়োজন। অনেক দেশ এখনো কয়লার ওপর নির্ভরশীল। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশগুলোকে দ্রুত বিকল্প শক্তির উৎস বের করতে হবে।










