পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের সব উদ্যোক্তা পরিচালকের ধারণকৃত শেয়ারহোল্ডিং, লেনদেনসহ বেশকিছু বিষয় তদন্ত করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এজন্য গত রোববার বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কমিশন। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুসারে, সাউথইস্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা পারিচালকদের শেয়ারহোল্ডিং, ঋণ, বিনিয়োগ ও লেনদেন তদন্ত করবে কমিটি। একই সঙ্গে ব্যাংকটি ইনসাইডার ট্রেড করছে কিনা, শেয়ারদরে ম্যানিপুলেশন করছে কিনা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করছে কিনা সেসব বিষয় তদন্ত করে দেখবে কমিটি। গঠিত কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করেছে কমিশন। কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮৭ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৫ টাকা ২২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ৮ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় সাউথইস্ট ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৪ টাকা ৯৮ পয়সায়। ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকাটি। এর মধ্যে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল সাউথইস্ট ব্যাংক। ২০১৭ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আগের হিসাব বছরে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) সাউথইস্ট ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৪৬ পয়সা। আর সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২১ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৩৬ পয়সায়।
২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৮৫ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২৮ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার ৬৭। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৫ দশমিক ৩০ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৩৬ দশমিক ৬১, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ৪১ ও বাকি ২৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল সাউথইস্ট ব্যাংক শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ১৩ টাকা ৩০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা ও ১৪ টাকা।










