কর্মী অসন্তুষ্টির কারণে গত বছর মার্কিন কোম্পানিগুলোয় আনুমানিক ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের লোকসান হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। খবর গালফ নিউজ।

কর্মক্ষেত্র নিয়ে বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে কর্মীরা অসন্তুষ্ট থাকলে এর প্রভাব পড়ে কোম্পানির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে। কর্মক্ষেত্রে অসন্তুষ্ট কর্মীর এ চোখ ধাঁধানো চিত্রটি মহামারীর পরে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে কর্মীদের বিচ্ছিন্নতা বোধ থেকে তৈরি হয়েছে।

গ্যালাপের জরিপে দেখা যায়, কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ এক দশক ধরে বাড়ছে। কিন্তু ২০২০ সালে এ চাপ সর্বোচ্চ ছিল। কয়েক বছর ধরে কর্মক্ষেত্রে কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সন্তুষ্টি ধীরে ধীরে কমেছে। কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তারা স্পষ্টভাবে জানেন না যে তাদের কাছ থেকে নিয়োগকর্তা কী আশা করছে। এটাই কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে দূরত্ব তৈরির প্রথম কারণ।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক কোম্পানির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সন্তুষ্ট কর্মী বেশি উৎপাদন করতে পারে। ফলে বিক্রয় বাড়ে ও মুনাফা বাড়তে সাহায্য করে। নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের সঙ্গে আরো ভালো সংযোগ স্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

গ্যালাপের ওয়ার্কপ্লেস প্রাকটিসের চিফ সায়েন্টিস্ট জিম হার্টার বলেছেন, ‘নিয়োগকর্তার উচিত কর্মীদের অনুপ্রাণিত করা। এটা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলাফলের সঙ্গে অনেক কিছু যুক্ত।’

জরিপটি মার্কিন কর্মপরিবেশের একটি অন্ধকার দিক তুলে এনেছে। উত্তরদাতাদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন যে তারা তাদের চাকরিতে সর্বোচ্চটা দিচ্ছেন। অর্ধেক উত্তরদাতা বলেছেন যে তারা ন্যূনতম চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

যখন একজন কর্মী সর্বোচ্চ শ্রমটা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন না, তখন সার্বিকভাবে কোম্পানির ওপর কী প্রভাব পড়ে? গ্যালাপ জরিপ করে দেখেছে, কর্মক্ষেত্রে উৎপাদন বা আয় কমে যায়। বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের জনবল হিসাব করে যে উৎপাদন হ্রাস গণনা করা হয়েছে, তা চমকে যাওয়ার মতো।

ম্যানেজমেন্টের ওপর বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক হার্টার জানিয়েছেন, কর্মীরা সবসময় এ প্রত্যাশা করে যে তারা যে কাজটি করছে তা সাধারণ মানুষের জন্য মঙ্গলজনক। তারা এটাও"অনুভব করতে চায় যে তারা কর্মক্ষেত্রে যা করে তার মাধ্যমে নিজেদের বড় কিছুর সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

এ সমস্যা সমাধানে হার্টার পরামর্শ দিয়েছেন, সহকর্মীদের সঙ্গে কী আচরণ করবেন সে সম্পর্কে পৃথক সাপ্তাহিক নির্দেশিকা তৈরি করা যেতে পারে। কর্মীদের পরস্পরকে সহযোগিতা করতে বলা যেতে পারে। এতে কর্মতৎপরতা ৫০ শতাংশের নিচ থেকে প্রায় ৮০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এ ধরনের কৌশল বিশেষত তরুণ কর্মীদের জন্য প্রয়োজন। কারণ তারা কর্মজীবনে ভারসাম্য রাখতে চায়। প্রয়োজনে চাকরি পরিবর্তনও করে তারা।

হার্টার বলেন,”‘‌জীবনকে উন্নত করার জন্য কাজ করে তরুণ কর্মীরা। বিষয়টি নিয়োগকর্তাকে মাথায় রাখতে হবে।’