জাপানের খুচরা বিক্রিতে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত নভেম্বরে দেশটির খুচরা বিক্রি টানা নবম মাসে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। কভিডজনিত সীমান্ত বিধিনিষেধ তুলে দেয়া এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে প্রণোদনা দেশটির ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, নভেম্বরে জাপানের বছরওয়ারি বিক্রি বাড়লেও মাসভিত্তিক হিসেবে কমে গেছে। মূলত জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় জাপানিদের খরচে লাগাম টানতে বাধ্য করছে। নভেম্বরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ৪১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল।

জাপানের অর্থনীতিতে অর্ধেকের বেশি অবদান রাখা ব্যক্তিগত ব্যয় তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছিল। এটি দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিরও চাবিকাঠি। ব্যক্তিগত খরচের পরিমাপের একক খুচরা বিক্রি নভেম্বরে এক বছর আগের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও এ হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৭ শতাংশের চেয়ে কম। পাশাপাশি এটি অক্টোবরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ধীর হয়েছে। অন্যদিকে ঋতুগতভাবে সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে খুচরা বিক্রি নভেম্বরে আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে। এটি পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, নভেম্বরে জাপানে বিদেশী দর্শনার্থীর সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। দুই বছর ধরে চলা কভিডজনিত বিধিনিষেধ শেষে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশটির পর্যটন খাত। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ পর্যটনে সরকারি প্রণোদনাও ভ্রমণ ও খুচরা বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করছে।

পৃথক তথ্যে দেখা গেছে, জাপানের বেকারত্ব নভেম্বরে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ হার রয়টার্সের জরিপে করা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অক্টোবরের ২ দশমিক ৬ শতাংশের থেকে কম। কর্মসংস্থানের তুলনায় আবেদনকারীর অনুপাত ১ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে। এ হার ২০২০ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ।

ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর হারুহিকো কুরোদা মুদ্রানীতি সহসাই কঠোর করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তার মতে, জাপান অতি সহজ মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রম ঘাটতি তীব্র হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন বাড়াতে বাধ্য হবে।

গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে জাপানের অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি, চীনা অর্থনীতিতে ধীরগতি, ডলারের বিপরীতে ইয়েনের অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ আমদানি ব্যয় জাপানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।