সর্বশেষ সম্মেলনে নতুন ছয় সদস্য যুক্ত করার মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে নেতৃত্ব দিবে ব্রিকস। আগামী দশকগুলোয় ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সম্পদ ও সাশ্রয়ী শ্রম সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ব্লকটি এগিয়ে যাবে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে অসলোভিত্তিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি। খবর দ্য ন্যাশনাল।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। দেশগুলোর নামের আদ্যক্ষর নিয়ে জোটের নামকরণ হয়েছিল ব্রিকস। জোটের নেতারা এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে জোট সম্প্রসারণের পথে হাঁটছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জোটটিতে আনুষ্ঠানিক যোগ দেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরান, মিসর, ইথিওপিয়া ও আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ভারত সম্মেলনে জোট সম্প্রসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সম্প্রসারিত ব্লকটি নিয়ে আশাবাদী পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি। তারা জানিয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ব্লকটি ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সংগ্রহ করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট ক্ষমতা ১১ টেরাওয়াটে পৌঁছেছে, যা সাতটি দেশের মোট চাহিদা ৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াটের দ্বিগুণ।’
তারা আরো জানায়, ‘খরচ কমে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এটি ব্রিকসের সঙ্গে সংযুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা তৈরি করছে।’
প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাশ্রয়ী শ্রম থাকার কারণে অনেক সদস্য দেশের এটি মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে নতুন যুক্ত হওয়া দেশগুলোর অর্থনৈতিক শক্তিকে ত্বরান্বিত করবে।
বর্তমান ব্রিকসের চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউইএ) মতো নতুন সদস্যরা নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলসহ নবায়নযোগ্য প্রকল্প নির্মাণে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো সরবরাহ করছে।
ইউইএর লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। দেশটি এনার্জি স্ট্র্যাটেজি ২০৫০ ও ন্যাশনাল হাইড্রোজেন স্ট্র্যাটেজির উন্নয়নে যথাক্রমে ৪ হাজার ৭৯ কোটি ও ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
আবুধাবির নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি মাসদার বিশ্বব্যাপী ৪০টিরও বেশি দেশে সক্রিয় এবং ৩ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগ করেছে বা বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কমপক্ষে ১০০ গিগাওয়াট ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য স্থির করেছে।
সৌদি আরব ২০৬০ সালের মধ্যে জিরো কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। দেশটি মক্কায় ২ দশমিক গিগাওয়াট ক্ষমতার সোলার প্লান্টসহ বেশ কয়েকটি নতুন নবায়নযোগ্য প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। প্রকল্পগুলো আকওয়া পাওয়ার ও বাদেল পরিচালিত করবে।
ব্রিকস ব্লকজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন (ইভি) তৈরির প্রবণতাও বাড়ছে। জি-৭ সদস্য দেশগুলোকে ছাড়িয়ে বর্তমান ইভি বিক্রিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন।
রিস্টাডের মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্প্রসারিত ব্লকে মোট নতুন গাড়ি বিক্রির ৬০ শতাংশেরও বেশি ইভি গাড়ি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেল উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ব্রিকস ও তার সদস্য দেশগুলো।










