চলতি মাসে ভারতের তুলা রফতানি বেড়ে দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভারতীয় তুলার দাম কম হওয়ায় এটি ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এশিয়ার যেসব ক্রেতা আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল থেকে তুলা আমদানি করত, তারা এখন ভারতের বাজারে ঝুঁকছে। খবর দি ইকোনমিক টাইমস। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক মাস আগেও তুলা রফতানিতে হিমশিম খাচ্ছিল ভারত। কিন্তু চলতি মাসের শুরুর দিকে বৈশ্বিক দাম, বিশেষ করে মার্কিন বাজার আদর্শ তুলার বাজারদর বেড়ে ১৭ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছলে আশাবাদী হয়ে ওঠেন ভারতের রফতানিকারকরা। দামের সুবিধার কারণে দেশটি থেকে ক্রয় বাড়াচ্ছে আমদানিকারক দেশগুলো। 

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় তুলা উৎপাদক। চলতি মাসের জন্য দেশটির ব্যবসায়ীরা চার লাখ বেল (প্রতি বেলে ৬৮ হাজার টন) তুলা রফতানির চুক্তি করেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ রফতানি চুক্তি। এসব তুলার সিংহভাগই যাবে চীন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে।

কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট অতুল গানাত্রা বলেন, ‘‌ভারতীয় তুলার এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক বাজার রয়েছে। বিশ্বের মধ্যে এ তুলার দাম সবচেয়ে কম। ফলে এটির রফতানিও বাড়ছে লাফিয়ে।’

তিনি জানান, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ২০ লাখ বেল তুলা রফতানি করতে পারে ভারত, যা এর আগের প্রত্যাশিত ১৪ লাখ বেলের চেয়ে অনেক বেশি। তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মনে করছেন রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৫ লাখ বেলে। 

ডিলাররা জানান, চীনের ক্রেতাদের মাঝে আগ্রাসী ক্রয়প্রবণতার কারণে গত দুই মাস মার্কিন তুলার দাম বেড়েছে। তবে এখন চীনের ক্রেতারা ভারত থেকে তুলা কিনছে। আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শের বিপরীতে ভারতীয় তুলার বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী মার্চে দেশটির রফতানির পরিমাণ তিন লাখ বেলে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে রফতানিতে সম্ভাবনা দেখা দিলেও ভারতে তুলা উৎপাদন ২০২৩-২৪ মৌসুমে আশঙ্কাজনক হারে কমার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির কটন অ্যাসোসিয়েশন। এটি জানায়, এবার ২ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার বেলে নামতে পারে পণ্যটির উৎপাদন, যা ১৫ বছরে সর্বনিম্ন। এর কারণ হিসেবে আবহাওয়ায় এল নিনোর বিরূপ প্রভাবের কথা বলছে কটন অ্যাসোসিয়েশন।

ভারতে তুলার মৌসুম অক্টোবরে শুরু হয়ে পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। ২০২২-২৩ বিপণন বর্ষে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার বেল তুলা উৎপাদন হয়েছিল। মৌসুমে সেখান থেকে উৎপাদনের পরিমাণ ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে আসবে। শুধু সিএআইয়ের হিসাবেই নয় সরকারি প্রাক্কলনেও তুলার উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সরকারি জরিপে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার বেল তুলা উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।