দীর্ঘ কয়েক বছর পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার তালিকায় কমেছে জাপানে রামেন রেস্তোরাঁর সংখ্যা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান তেইকোকু ডাটাব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশটিতে রামেন রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার ঘটনা আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে রেকর্ড ৭৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধ হলেও গত বছর এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৫৯টিতে। চার বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। খবর জাপান টুডে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছরে কাঁচামালের আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২০ সালের তুলনায় একটি সাধারণ বাটি রামেন তৈরির উপকরণের দাম বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। নুডলসের জন্য আটা, ঝোলের জন্য শূকরের হাড় এবং অন্যান্য সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের চাপে ছিলেন। বিশেষ করে ১ কোটি ইয়েনের বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
তবে বর্তমানে টিকে থাকার জন্য রেস্তোরাঁগুলো ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। তেইকোকু ডাটাব্যাংক জানিয়েছে, অনেক রেস্তোরাঁ এখন ব্রোথলেস বা ঝোলহীন রামেন বিক্রি করছে। এতে অনেক উপকরণের সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কেন্দ্রীয় রান্নাঘর বা সেন্ট্রাল কিচেন ব্যবহারের মাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলো কর্মীর সংখ্যা ও খরচ কমিয়ে এনেছে। ব্যবসায়ীরা এখন শুধু প্রচুর বিক্রির পেছনে না ছুটে খাবারের দাম বাড়িয়ে প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে লাভ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বড় বিনিয়োগ ফান্ড ও চেইন রেস্তোরাঁগুলো এখন ছোট ও সংকটে থাকা রামেন শপগুলোকে কিনে নিতে আগ্রহী হচ্ছে। এতে ২০২৬ সালে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার সংখ্যা আরো কমতে পারে। তবে কাঁচামালের দাম এখনো চড়া থাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি কেটে যায়নি বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।










