বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ কাপড়ের খুচরা বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ফ্যাশন ব্র্যান্ড জারা। ব্র্যান্ডটি আবারো তার পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে পণ্যের দাম বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্র্যান্ডটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্স। চাহিদা কমা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান খরচ কমানোর চেষ্টা করছে স্প্যানিশ ফ্যাশন জায়ান্টটি। খবর রয়টার্স।

ইন্ডিটেক্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ইগনাসিও ফার্নান্দেজ বলেন, বসন্ত ও গ্রীষ্মে পণ্যের মূল্য বাড়ানোর পর প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আবারো দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইন্ডিটেক্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইয়ে শেষ হওয়া ছয় মাসে ইন্ডিটেক্সের মুনাফা ৪১ শতাংশ বাড়ছে। এ সময়ে সংস্থাটির আয়ও এক-চতুর্থাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইগনাসিও ফার্নান্দেজ বলেন, নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন, গুণাগুণ বজায় রাখা এবং ডিজাইন আমাদের পণ্যের বিক্রিকে ত্বরান্বিত করছে। কিন্তু আমরা সর্বদা একটি স্থিতিশীল মূল্যনীতির কথা ভাবছি। এ সময় তিনি ৫ শতাংশের মতো পণ্যের মূল্য বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড জারার প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে মার্টা ওর্তেগা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দায়িত্ব নেয়ার পর চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৪৮৪ কোটি ইউরো (১ হাজার ৪৮২ কোটি ডলার) আয় করেছে। যেখানে গত বছর প্রতিষ্ঠানটির আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৯০ কোটি ইউরো। এ সময়ে মুনাফা গত বছরের ১২৭ কোটি ইউরো থেকে বেড়ে ১৭৯ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সিইও অস্কার গার্সিয়া ম্যাসিরাস বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বিক্রি বেড়েছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে ফ্যাশনের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বেগে রয়েছেন। এটি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক ক্রেডিট সুইসের বিশ্লেষকরা বলেন, পণ্য বিক্রির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া এবং মূল্যনির্ধারণের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে ইন্ডিটেক্স। তবে মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতারা যে চাপে পড়বে না এর কোনো নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠানটি দিতে পারে না।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে কভিড বিধিনিষেধ বাতিল করায় পুনরায় কর্মীরা অফিসে যাওয়ার জন্য পোশাক ক্রয় করছেন। এ সময়ে ইন্ডিটেক্স মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার জন্য পণ্যের মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ১ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিক্রি বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। যেখানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ হার ছিল ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।