জুলাইজুড়ে ভারতের বাজারে ছোলার দাম বাড়তির দিকে ছিল। ওই সময় পণ্যটির দাম বেড়েছিল অন্তত ২৩ শতাংশ। তবে চলতি মাসে এসে পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে (১-১০ সেপ্টেম্বর) ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য ছোলার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি গুদামগুলোয় বাড়তি মজুদের পাহাড় কমিয়ে আনতে খোলাবাজারে ছোলা বিক্রি করা হচ্ছে। এর জের ধরে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ভারতজুড়ে কমতে শুরু করেছে ছোলার দাম। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।

এনসিডিইএক্সে ১ সেপ্টেম্বর ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কুইন্টাল ছোলা ৫ হাজার ৩৮ রুপিতে (ভারতীয় মুদ্রা) বিক্রি হয়েছিল। ১০ সেপ্টেম্বর নাগাদ পণ্যটির দাম কুইন্টালপ্রতি ৪ হাজার ৮০০ রুপিতে নেমে এসেছে। ২৮ জুলাইয়ের পর এটাই ছোলার সর্বনিম্ন দাম।

এ বিষয়ে মহারাষ্ট্রভিত্তিক কেদিয়া অ্যাডভাইজরির পরিচালক অজয় কেদিয়া বলেন, সরকারি গুদামে ছোলা মজুদ বেড়েছে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে অন্তত তিন লাখ টন ছোলা খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এর জের ধরে বাজারে চাহিদার তুলনায় ছোলার সরবরাহ রয়েছে বেশি, যা ভারতে পণ্যটির দরপতনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তবে আগামী দিনগুলোয় প্রতি কুইন্টাল ছোলার দাম ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ রুপির মধ্যে অবস্থান করতে পারে।

দেশটির এডেলুইস রুরাল অ্যান্ড কোঅপারেটিভ সার্ভিসের গবেষণা শাখার প্রধান পিরানা দেশাই বলেন, বাড়তি সরবরাহের বিপরীতে বাজারে ছোলার বেচাকেনা নেই বললেই চলে। রফতানি চাহিদাও রয়েছে স্থবির। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির দাম কমে কুইন্টালপ্রতি ৪ হাজার ৮০০ রুপিতে নেমে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, সামনে দিপাবলি আসছে। উৎসবের মৌসুমে বেচাকেনা আগের তুলনায় বাড়লে ছোলার মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারে। কেননা পণ্যটির রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। আর অভ্যন্তরীণ বাজারে বেচাকেনা না বাড়লে ছোলার দাম আরো কমে কুইন্টালপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ রুপির নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।