রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত ও মূল্যস্ফীতিতে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনে সুখবর জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সাম্প্রতিক খাদ্য অনিরাপত্তাবিষয়ক ওই প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে প্রধান তিন শস্য—ভুট্টা, চাল ও গমের মূল্য কমেছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সপ্তাহে চাল ও ভুট্টার মূল্য ১ শতাংশ ও গমের মূল্য ২ শতাংশ কমেছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এক বছরের তুলনায় ভুট্টা ও গমের মূল্য যথাক্রমে ১৩ শতাংশ ও ৩৪ শতাংশ কম। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর পরই এসব পণ্যের মূল্য বেড়ে গিয়েছিল। তবে চালের মূল্য গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বাড়তি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর ও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে খাদ্যে উচ্চমূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। এ সময় ৫ শতাংশের ওপরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮৮ শতাংশ নিম্ন আয়ের দেশে, ৯৩ শতাংশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে ও ৮৯ শতাংশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে। এমনকি অনেক দেশে দুই সংখ্যার মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, উচ্চ আয়ের ৮৬ শতাংশ দেশ খাদ্যে উচ্চমূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে। উচ্চমূল্যস্ফীতি আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এদিকে রেকর্ড শস্য উৎপাদনের আভাস দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক শিল্প ও অঞ্চল বিভাগ। সংস্থাটির শস্য ও চারণভূমি শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে ২০২২-২৩ মৌসুমে শস্য উৎপাদন ১ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি।
প্রাক্কলন অনুযায়ী, গমের উৎপাদন ৭৩ লাখ ৩০ হাজার টন, বার্লি ৩০ লাখ ৮০ হাজার, ক্যানোলা ৬ লাখ ৮৪ হাজার ও ওটস ২ লাখ ৩০ লাখ ৯৫০ টন হবে। চলতি মৌসুমে ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বীজ বপনে বিলম্ব ও ফসল কাটায় ধীরগতি দেখা গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও মোট বার্ষিক উৎপাদন রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। এর আগে রেকর্ড উৎপাদন হয়েছিল ২০১৬-১৭ মৌসুমে। সে সময় ১ কোটি ১১ লাখ টন শস্য তোলা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক উচ্চমূল্য ও বিরূপ আবহাওয়ায় রেকর্ড উৎপাদনের কারণে এ মৌসুমে কৃষকরা আগের মৌসুমের থেকে বেশি দাম পাবে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩৯ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা শস্য রোপণ করেছেন। দাম বেশি থাকায় বার্লির চেয়ে ক্যানোলা বেশি জমিতে আবাদ করা হচ্ছে।









