কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত, হেলথ কেয়ার ও নার্সিং, পর্যটন, ওষুধ, কেমিক্যাল, প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং এবং সিরামিকসহ বেশকিছু খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এসব খাতের রফতানি সম্ভাবনাও প্রচুর। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নয়নের ওপর জোর দেন তারা।

গতকাল সকালে এফবিসিসিআইয়ের গুলশান কার্যালয়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টার চেম্বার অব কমার্স (জিএমসিসি) এবং এফবিসিসিআইয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে। যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পায়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী। তিনি বলেন, ‘‌গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। আমরা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছি। বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশে এসব শিল্পে ম্যানচেস্টারসহ যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রচুর। এসব খাতে তারা শিল্প স্থাপন করলে স্থানীয় বৃহৎ বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও পণ্য রফতানি করতে পারবে।’

সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং শিল্প, কেমিক্যাল, আবাসন ও নির্মাণ শিল্পের পণ্যসামগ্রী, বাথরুম ফিটিংস, মেডিকেল যন্ত্রপাতি, পাট ও পাটজাত পণ্য, পর্যটন ও আবাসিক হোটেল খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিষয়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টার চেম্বার অব কমার্সের (জিএমসিসি) প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন আমিন হেলালী। এ সময় জ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে ম্যানচেস্টার চেম্বারের সহযোগিতা চান তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী কমিউনিটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহের কথা জানান জিএমসিসির সভাপতি কাশিফ আশরাফ। তিনি বলেন, ‘‌যুক্তরাজ্যে অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে যারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে জানেন না।’ বিটুবি পর্যায়ে মিটিং আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশকে দক্ষতা ও প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন জিএমসিসির সভাপতি। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী, মোহাম্মদ ইসহাকুল হোসেন সুইট, এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর, সাধারণ পরিষদের সদস্য, ব্যবসায়ী নেতা ও জিএমসিসি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।