পাম অয়েল উৎপাদনের বৈশ্বিক তালিকায় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার অবস্থান যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয়। আগামী বছর শীর্ষ দুই দেশের যৌথ পাম অয়েল উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস করেছে খাতসংশ্লিষ্ট একটি শিল্প সংস্থা। দুই দেশে বিরাজমান মাত্রাতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রয়োজনের তুলনায় কম সার প্রয়োগের কারণে উদ্ভিজ্জ তেলটির উৎপাদন কমতে পারে। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত একটি শিল্প সম্মেলনে ভারতের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গোদরেজ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক ডোরাব মিস্ত্রি বলেন, আগামী বছরে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল উৎপাদনে সামান্য প্রবৃদ্ধি থাকলেও মালয়েশিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে। এতে দুই দেশের যৌথ পাম অয়েল উৎপাদন হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন চলতি বছরের তুলনায় ১০ লাখ টন কমে ৪ কোটি ৪০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে মালয়েশিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন প্রায় একই পরিমাণ কমে ১ কোটি ৯৩ লাখ টনে নামতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েলের উৎপাদন হ্রাসের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির পামক্ষেতে কোনো সার প্রয়োগ করা হয়নি। এছাড়া শুষ্ক আবহাওয়া তো রয়েছেই। একই সঙ্গে দেশটিতে নতুন করে কোনো পাম আবাদ হয়নি। সব মিলিয়ে  দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালের মার্চের পর থেকে উদ্ভিজ্জ তেলের বৈশ্বিক মজুদ কমতে শুরু করবে। এ সময়ে চীন ও ভারতের বাজারে পাম অয়েলের চাহিদা বাড়বে। এদিকে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল উৎপাদনে  পণ্যটির ব্যবহার বাড়বে। এতে সরবরাহ সংকটে ওই সময় পাম অয়েলের দাম ঊর্ধমুখী হতে শুরু করবে।

২০২০ সালের মার্চ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজরে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ২ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ান মুদ্রা) বা ৬৫১ ডলার ৭০ সেন্ট ছাড়িয়ে যাবে।

চলতি বছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পাম অয়েল আমদানি করেছে চীন। আগামী বছরও এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক দেশ ভারতেও পণ্যটির আমদানি বেড়েছে। ২০১৯-২০ বিপণন বর্ষে (চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে) ভারত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করতে পারে। যেখানে পাম অয়েলের  শেয়ার থাকতে পারে ৯৯ লাখ টন।  আগের বর্ষে দেশটি মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছিল। এর মধ্যে পাম অয়েলের পরিমাণ ছিল ৯৫ লাখ টন।