সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ফল, চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩০ জেলায় অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯১ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) অধিদপ্তরের ৪০টি টিম একযোগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল, চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় ঠেকাতে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধসহ গ্যাস সিলিন্ডারের মজুত মনিটরিং, সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি প্রতিপালন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না- তা যাচাই করা হয়। তদারকিকালে ফলের ক্রয় ভাউচার ও বিক্রয় রসিদও খতিয়ে দেখা হয়।

পাশাপাশি ভোজ্যতেলের বাজারে পরিচালিত বিশেষ তদারকিতে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না এবং ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত ভোজ্যতেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কি না- সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।

এ ছাড়া অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, সঠিক ওজন ও পরিমাপ এবং সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযানে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা বাজার তদারকি কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং পণ্য ক্রয়ের আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করে পণ্য ক্রয় করা এবং ক্রয়ের সময় বিক্রেতার নিকট থেকে ভাউচার সংগ্রহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

পণ্য ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার সম্মুখীন হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য, পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অধিদপ্তরের এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।