চীনে এখনো কভিডজনিত প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত। বারবার লকডাউনের কারণে বিভিন্ন শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। আবাসন খাতের সংকট কারখানা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বৈশ্বিক দুর্বল চাহিদা ও উচ্চ উৎপাদন ব্যয় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির শিল্প খাতের মুনাফা আরো দ্রুতগতিতে কমেছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে শিল্প মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে মুনাফা কমার হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। খবর রয়টার্স।

গতকাল প্রকাশিত ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের (এনবিএস) তথ্য অনুসারে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির শিল্প খাত খাদের দিকে যাচ্ছে। এর আগে বছরের প্রথম সাত মাসে শিল্প খাতের মুনাফা বছরওয়ারি হিসাবে ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মূল কার্যক্রম থেকে বার্ষিক ২ কোটি ইউয়ানের বেশি আয় করা প্রতিষ্ঠানগুলো এ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নাগরিকদের ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও বিচ্ছিন্ন করার জন্য চীনের জিরো কভিড নীতি দেশটির অর্থনীতি ও উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়ার লক্ষণগুলো রফতানিমুখী নির্মাতাদের ওপর আরো বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এনবিএসের জ্যেষ্ঠ পরিসংখ্যানবিদ জু হং এক বিবৃতিতে বলেন, মুনাফা পুনরুদ্ধারে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। কারণ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উচ্চ ব্যয় ও মুনাফা কমে যাওয়ার কারণে উৎপাদন এবং পরিচালনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ভবিষ্যতে চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করবে এবং দক্ষতার সঙ্গে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় সাধন করবে।

তবে এনবিএস আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের পৃথক শিল্প মুনাফার প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। যদিও একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, গত মাসে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা আগের মাসের তুলনায় ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।

সেপ্টেম্বরের কার্যক্রমের তথ্যগুলো শক্তিশালী শিল্পোৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে। তবে দীর্ঘস্থায়ী রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দা, ধীর রফতানি ও দুর্বল খুচরা বিক্রি শক্তিশালী পুনরুদ্ধার নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর মুনাফা বছরওয়ারি হিসাবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। যখন হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ানে বিনিয়োগ করা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৮ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে শিল্প মুনাফা সংকুচিত হলেও খনন খাত উচ্চ মুনাফা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। বছরের প্রথম নয় মাসে এ খাতের মুনাফা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। যখন উৎপাদন খাতের মুনাফা ১৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের বিনিময় হার কমার কারণে গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। এ পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

চায়না এভারব্রাইট ব্যাংকের বিশ্লেষক জো মাওহুয়া বলেন, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খাত চাপের সম্মুখীন হয়েছে। সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের নীতিগত ব্যবস্থা বজায় রাখা উচিত।

বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়া সত্ত্বেও গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা চতুর্থ প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছেন। বছরের শেষ তিন মাসে চীনা জিডিপি পূর্বের ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন তারা। উদীয়মান শিল্পের কার্যক্রম, নতুন বাড়ি বিক্রি, গাড়ি বিক্রি, পরিবহন ও ছুটির পর্যটন আয় অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।