গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারিতেও ব্যয় বাড়িয়ে চলেছেন মার্কিন ভোক্তারা। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরের খারাপ পরিস্থিতির পর মার্কিনিরা বর্তমানে দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন। খবর এপি।
সম্প্রতি প্রকাশিত মিশিগান ইউনিভার্সিটির কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স বা ভোক্তা মনোভাব সূচক (সিএসআই) অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সিএসআই ৭৯ ছিল, ফেব্রুয়ারিতে তা ৭৯ দশমিক ৬ হয়েছে। সামান্য বৃদ্ধি হলেও এটা ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এ পরিসংখ্যান এমন সময়ে প্রকাশ পেল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসন্ন। প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ে জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
ভোক্তা জরিপের পরিচালক জোয়ান সু বলেন, ‘ভোক্তারা অর্থনীতির ওপর আস্থা বাড়ানোয় মনোভাব চাঙ্গা হয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারির তুলনায় পরিসংখ্যানের উন্নতি এটাই নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ভোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, মূল্যস্ফীতি আরো কমবে এবং শ্রমবাজার শক্তিশালী হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে।’
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভোক্তাদের আস্থার উন্নতি প্রায়ই তাদের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করে। কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে আমেরিকায় ভোক্তা ব্যয় বেশির ভাগ সময়জুড়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল। এমনকি যখন ভোক্তা মনোভাবের সূচক কম ছিল, তখনো ব্যয় বেশি ছিল।
হোয়াইট হাউজের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লায়েল ব্রেইনার্ড সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জো বাইডেনের মেয়াদে মজুরি বাড়ানো, সম্পদ ও ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সামগ্রিক ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তাদের প্রত্যাশা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বেশির ভাগ মার্কিন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ইতিবাচক অবস্থানে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দেশটির অর্থনীতি এখনো সম্প্রসারিত হচ্ছে। নিয়োগকর্তারা নিয়োগ দিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি কমছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের মত অনুসারে, এক বছর আগের তুলনায় ডিসেম্বরে ভোক্তামূল্য ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
জরিপ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোক্তা মনোভাব প্রকাশে জনগণের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। রিপাবলিকানদের মনোভাব ৫৬ দশমিক ৩ থেকে ৬৫-এ উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের মনোভাব ১০১ দশমিক ৭ থেকে ৯৮ দশমিক ৪-এ নেমে এসেছে। আর স্বতন্ত্রদের মনোভাব ৭৪ দশমিক ৬ থেকে ৭৬ দশমিক ৬ পর্যন্ত উঠেছে।










