চটকদার বিজ্ঞাপন ও দ্রুত অর্থলাভের প্রলোভনে দেশে দিন দিন বাড়ছে অনলাইন জুয়ায় বিস্তার। শহর-গ্রাম নির্বশেষে তরুণ-যুবা থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী মানুষ ও তাদের পরিবার এ জুয়ার ফাঁদে সর্বস্ব হারাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনলাইন জুয়া বন্ধে কঠোর নজরদারি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনলাইন জুয়া মাদকাসক্তির চেয়েও ভয়াবহ। এটি মস্তিষ্কে এমন উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা মানুষকে বারবার বাজি ধরতে বাধ্য করে এবং শেষ পর্যন্ত গভীর আর্থিক সংকটে ঠেলে দেয়।
অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জুয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে মানসিক স্বাস্থ্যের। জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তির মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা ও মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়ে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবারেও। সংসারে অশান্তি, সামাজিক সম্পর্কের অবনতি এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এ আসক্তি চুরি বা অন্যান্য অপরাধের পথেও ঠেলে দিচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন জুয়া বা বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল কার্যক্রমের ফুটপ্রিন্ট শনাক্ত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার, জুয়ায় ব্যবহৃত অর্থ ও সরঞ্জাম জব্দ এবং কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। —বিজ্ঞপ্তি










