রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার অভিযোগে চীনের ৪২ কোম্পানিকে রফতানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোম্পানিগুলো ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ও মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম রাশিয়ার কাছে সরবরাহ করছে বলে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অভিযোগ। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
চীনা কোম্পানি ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ভারত, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানের নাম। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যালান এস্তেভেজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রফতানি নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে সহায়তা করা হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপে দ্বিধা করা হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানেই অবস্থিত হোক।’
যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রচেষ্টা দেশটিতে উৎপাদিত প্রযুক্তি পণ্য যেন কোনোভাবেই রাশিয়ার সামরিক খাতে ব্যবহৃত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ম্যাথিউ এক্সেলরড জানিয়েছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত প্রযুক্তি পণ্য রাশিয়ার কাছে বিক্রি করে। ফলে তাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি পণ্য রাশিয়ার সামরিক খাতে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, ‘নতুন নিষেধাজ্ঞা একটি স্পষ্ট বার্তা হলো কেউ যদি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতকে মার্কিন প্রযুক্তি সরবরাহ করেন; তাকে খুঁজে বের করা হবে। নেয়া হবে যথাযোগ্য ব্যবস্থা।’
এর জবাবে চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ অর্থনৈতিকভাবে নিপীড়নের শামিল। তাদের উচিত হবে ভুল শুধরে নেয়া এবং অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেয়া।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছরের মাথায় রফতানি নিয়ন্ত্রণ নীতির আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সর্বশেষ রাশিয়া গত বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বড় আঘাত হানে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব গ্রামে। তাতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫২। যেসব কোম্পানিকে রফতানি নিয়ন্ত্রণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের মার্কিন নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি মনে করে। ফলে সরবরাহকারীদের এজন্য পর্যবেক্ষণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।










